নির্বাচনের আগেই আর্থিক খাতে স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। ধার করে হলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন ডলার ধরে রাখার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
রোববার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বিশ্ব ব্যাংক এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেম আয়োজিত এক আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং-সানেম এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অলোচকরা বলেন, চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারের ঋণের পরিমাণ বাড়লেও তা উদ্বেগজনক নয়, তবে রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় কমছে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা; যা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করেন তারা।
অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আগামী জানুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেন অন্তত ১৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে না নামে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক বলেন, এই মুহূর্তে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে আমাদের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
তিনি জানান, রিজার্ভ বাঁচাতে বাংলাদেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উৎস থেকে সহায়তা পাওয়াসহ সম্ভাব্য সব বিকল্পের খোঁজ করতে হবে।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের সামনে একটি নির্বাচন আছে এবং এটি স্বাভাবিক নির্বাচন নয়, কারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে অনেক অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা লিসেলোট ওহনসোর্জ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায় বিবেচনা করলে দেশের নিট রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারের কম হবে।