বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন




ফুরিয়ে যাচ্ছে ব্যান্ডেজ-পিন-রড, ভেঙে পড়েছে গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৩ ১১:৪৭ am
গাজা হামলা Flag Israel ইসরায়েল জেরুজালেম israyel israil netaniyahu নেতানিয়াহু ইসরাইল Map of Palestine Jerusalem israel palestine gaja gaza Flag hamas ফিলিস্তিন পতাকা হামাস গাজা গাযা Al-Aqsa masjid আল আকসা মসজিদ মুকাদ্দাসAl-Aqsa masjid আল-আকসায় ক্ষেপণাস্ত্র গাজা
file pic

ইসরাইলের নির্বিচারে বোমা হামলায় গাজার হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। খাদ্য, পানি ও ওষুধের অভাবে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে আরও ভয়াবহ। পুড়ে যাওয়া রোগীরা বার্ন ইউনিটে অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে চিকিৎসকদেরও।

অগণিত আহতের ভিড়ে দেখা দিয়েছে জায়গার সঙ্কুলান। হাসপাতালে সিট নেই, ফুরিয়ে যাচ্ছে ব্যান্ডেজ, পিন, রডসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী। তাঁবু খাটিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় কোনোরকম থাকছে মানুষ। একটু নিরাপত্তার আশায় অনেকে আবার হাসপাতালকেই বানিয়ে নিচ্ছে শরণার্থী শিবির।

গাজার হাসপাতালগুলোতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন চিকিৎসকরাও। রোগীদের সেবা দিতে প্রতিনিয়তই তারা হিমশিম খাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তাদের চোখের সামনেই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য রোগী।
স্থানীয় সময় রোববার বিবিসি নিউজ আওয়ার প্রোগ্রামে আল-শিফা হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। বার্ন ইউনিটে কর্মরত আল-শিফা হাসপাতালের ওই সার্জনের নাম ঘাসান আবু সিত্তাহ। তিনি বলেন, ‘বার্ন ইউনিটে রোগীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

এখন পর্যন্ত সেখানে ৭০ জন রোগী থাকলেও কিছু কিছু রোগীর অবস্থা অত্যধিক শোচনীয়। বাড়তে থাকা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সিট নেই। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদেরই সেখানে রাখা হয়েছে। শরীরে ক্ষত রোগীদের জন্য প্রতিদিন প্রচুর ব্যান্ডেজের প্রয়োজন।

কেননা, ক্ষত পরিষ্কার রাখতে এন্টিসেপটিকসহ এ সামগ্রীগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ ঘাসান আবু বলেন, ‘হাসপাতালের ক্ষত সারানোর জন্য ব্যান্ডেজ, ফ্র্যাকচার ঠিক করার জন্য পিন ও রড ফুরিয়ে গেছে। আহতের সংখ্যা বাড়ছেই। কিন্তু আমাদের চিকিৎসাসামগ্রী নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহও একটি উদ্বেগের বিষয়। হাসপাতালের কর্মীরা তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবু ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন। বিদ্যুৎ ছাড়া এই হাসপাতাল শুধু একটি গণকবর।’ সংকটময় পরিস্থিতিতে গাজায় দেখা দিয়েছে রক্তের ঘাটতি। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের রক্তদান করতে বলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বাসিন্দাদের গাজাজুড়ে হাসপাতাল এবং ‘ব্লাড ব্যাংকে’ ছুটে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই অঞ্চলে রক্ত আনার জন্য রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটিকেও আহ্বান জানিয়েছে।

গাজার হাসপাতালগুলোতে অমানবেতর জীবনযাপন করছেন রোগীরা। মেঝে শুয়েই কোনোরোকম সময় কাটাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর এখন আবহাওয়া ঠান্ডা হলেও শীত নিবারণের উপায় নেই।

করুণ অবস্থায় তাঁবু খাটিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও আল-শিফা হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, ‘আমরা এখনো এখানে আছি, কারণ আমরা চারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছি এবং কোথাও কোনো গ্যারান্টি নেই, তাই আমরা হাসপাতালে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা একটু খাবার আর একটু পানি দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছি।’

বিদ্যুতের অভাবে জীবনঝুঁকিতে আছে গাজার অসংখ্য শিশু। নিবিড় পরিচর্যায় ইনকিউবেটরে রয়েছে ১২০ শিশু, ভেন্টিলেটরে রয়েছে আরও ৭০ নবজাতক।

ফিলিস্তিনিদের জন্য দাতব্য চিকিৎসা সহায়তার গাজার পরিচালক ফিকর শালটুট বলেছেন, ‘জেনারেটর চালানো বন্ধ হলে অকাল শিশু বেঁচে থাকতে পারে না।’ শোচনীয় এ পরিস্থিতিতেও থামছে না ইসরাইলি বাহিনী।

হাসপাতালগুলো টার্গেট করে একের পর এক চালানো হচ্ছে হামলা। ফিলিস্তিনি মিডিয়ার বরাত দিয়ে রয়টার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজার সবচেয়ে বড় মেডিকেল কমপ্লেক্স আল-শিফা, পাশাপাশি আল-কুদস এবং ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল। টেলিগ্রাম চ্যানেলে হামাস একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা তারা দাবি করেছে যে এটি আল-কুদসের কাছে ইসরাইলি বিমান হামলা। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ছবিও প্রকাশ করেছে তারা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD