শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন




মোমেন-শাহরিয়ারের যুক্তরাষ্ট্র ‘ম্যানেজ’ হওয়ার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১২:২১ pm
ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা North America United States United State usa
file pic

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আগে তা নিয়ে তারা আগেভাগে কোনো আলোচনা করে না। এটা তাদের দীর্ঘদিনের চর্চা। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের যুক্তরাষ্ট্র ‘ম্যানেজ’ হয়ে যাওয়ার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। একই সঙ্গে তিনি গণহারে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকে গ্রেপ্তার এবং জেলে নির্যাতনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেছেন, নির্বাচন হতে হবে সব দলের অংশগ্রহণে। এ সময় কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সরকারের প্রোপাগান্ডা যুক্তরাষ্ট্রের নজরে রয়েছে বলেও জানান তিনি। ম্যাথিউ মিলার উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশে নির্বাচন-সংক্রান্ত ভুয়া খবরের (ডিপ ফেক নিউজ) বিষয়ে। সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারি তার কাছে জানতে চান, আসন্ন ‘ডামি ইলেকশনে’ বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর, ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহার করে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কি- এ প্রশ্নের জবাবে ম্যাথিউ মিলার ওই মন্তব্য করেন।

এদিন মুশফিকুল ফজল আনসারিসহ মোট ৩ জন সাংবাদিক বাংলাদেশ ইস্যুতে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এর মধ্যে একজন সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান- ‘মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।

এখন তারা তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিতে দিচ্ছে না। তিনি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা দেয়ার অনুরোধ করেছে জাতিসংঘ। একই অনুরোধ জানানোর কোনো পরিকল্পনা কি যুক্তরাষ্ট্রের আছে?’ এ প্রশ্নের জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমি এ প্রশ্নটি নিচ্ছি এবং এর উত্তর জানার চেষ্টা করবো।

ম্যাথিউ মিলারের কাছে মুশফিকুল ফজল আনসারি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান- ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আসন্ন ‘ডামি ইলেকশনের’ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ও ভুয়া ভিডিওর মাধ্যমে প্রোপাগান্ডামুলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কি অনুগ্রহ করে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন! জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন সংক্রান্ত ভুয়া তথ্যসমৃদ্ধ উদ্বেগজনক ‘ডিপ ফেক’ খবর দেখেছি। এটা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কৌশলে বশে আনা এবং প্রভাবিত করার উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ।

এ পর্যায়ে তার কাছে মুশফিক জানতে চান- ‘১৮ই ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা ছাড়া সব রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বাংলাদেশে। এর মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো দেশকে যখন শাসকগোষ্ঠী জেলখানা বানিয়ে ফেলছে তখন বাংলাদেশে মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক ৬টি সংগঠন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (শাহরিয়ার আলম) দাবি করেছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ম্যানেজ’ করতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেছেন, (নির্বাচনের পর) সরকার গঠন হলে যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারকে সমর্থন দেবে। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

সাংবাদিক মুশফিকের এ প্রশ্নের জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার এবং জেলখানায় নির্যাতনের রিপোর্টে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে সংযত ও বিরত থাকার আহ্বান জানাই। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে, সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে, যাতে সহিংসতা বা প্রতিশোধ নেয়ার ভয় ছাড়াই নির্বাচনপূর্ববর্তী এবং নির্বাচনী পরিবেশে অবাধে অংশগ্রহণ করতে পারেন সবাই। আমাদের বিশ্বাস, যখন বিভিন্ন জন এসব ইস্যুতে অবাধে কথা বলতে পারেন, সংলাপে যুক্ত হন এবং আলোচনা করেন তখন তা থেকে একটি সুস্থ গণতন্ত্র উপকৃত হয়।

এ পর্যায়ে ম্যাথিউ মিলারের কাছে অন্য একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- আমি জানি অনেকেই বাংলাদেশ ইস্যুতে প্রশ্ন করছেন। আগামী ৭ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার কোনো নতুন খবর আপনার কাছে আছে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, আজ (বুধবার) ঘোষণা করার মতো কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা আমার কাছে নেই। নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আগে তা নিয়ে পূর্বেই কথা না বলা আমাদের দীর্ঘদিনের চর্চা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD