রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণহানির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আমিন হেলালীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শনিবার ওই ভবনটি পরিদর্শন করে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমিন হেলালী বলেন, ‘‘আইন সরকারের হাতে, আমরা আইন মেনে ব্যবসা করব। ব্যবসা করতে অনেক কাগজপত্র লাগে। কেউ যদি আইন না মেনে ব্যবসা করে, তা করার সুযোগ নেই। যারা দেখার দায়িত্ব ছিল, তারা কী করল?’’
অগ্নিকাণ্ডের জন্য কেবল একতরফাভাবে ব্যবসায়ীদের দায়ী করলে হবে না মন্তব্য করে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘‘এ এলাকা দেখার জন্য রেগুলেটর প্রতিষ্ঠানের অনেক ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) আছে, তারা কী করেছে? আমি মনে করি, তাদের গাফিলতি আছে।’’
কেবল নোটিস দিয়ে নিয়ন্ত্রকরা আগুনের দায় এড়াতে পারে না: এফবিসিসিআই
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহতদের মধ্যে ১১ জন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের তরফে জানানো হয়েছে, গ্রিন কোজি কটেজের অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবন কর্তৃপক্ষকে তারা একাধিকবার নোটিস দিয়েছিলেন।
তবে অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনগতভাবে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ফায়ার সার্ভিস একটা নোটিস দেবে। তা না মানলে সেই ভবন ব্যবহারযোগ্য নয় বলে ঘোষণা করতে হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহসভাপতি স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, “গ্রিন কোজি কটেজের মত একটা বাণিজ্যিক ভবন পরিচালনার জন্য সরকারের যে আটটি সংস্থার অনুমোদন লাগে, এসব সংস্থার প্রত্যেকটিকেই এই অবহেলাজনিত হত্যার আসামি হওয়ার উচিত।”
ব্যবসায়ীদের নেতা হেলালী বলছেন, ‘‘দুর্ঘটনার পর (নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো) তারা এখন একতরফাভাবে ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করছে। কেবলমাত্র নোটিস দিয়ে তারা দায় এড়াতে পারে না। দুর্ঘটনার আগেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তাদের ছিল। সেটি না করে তারা তখন উদাসীন ছিল।’’
ব্যবসায়ী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে যারা যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তিনি।
‘নিয়ন্ত্রকদের শাস্তি কেন হয় না?’
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘‘যারা রেগুলেটরি বোর্ডে আছেন, তাদের কোনও শাস্তি হয় না। তারা শুধু নোটিসে দেন। নোটিস বড় ব্যবস্থা না, আপনারা কেন সেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলেন না, সেটা হলো প্রশ্ন?’’
হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘‘যেসব রেগুলেটরি বোর্ড এ ভবনে ব্যবসার অনুমতি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিক। সবকিছু বাণিজ্যিকীকরণ করা হবে, আর সেটার মাধ্যমে মানুষের জীবন চলে যাবে– এটা হতে পারে না।’’
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘‘এখানে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে, কাস্টমারদেরও ক্ষতি হয়েছে। তাদের জীবন চলে গেছে। ব্যবসায়ীদের শত কোটি টাকা এখানে নষ্ট হয়েছে।’’
অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি ও এফবিসিসিআই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, এফবিসিসিআই সেফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শহিদ উল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।