গৃহায়ন ও গণপূর্তের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বুধবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ফ্রান্সের প্যারিসের উদ্দেশে রওনা হবেন। কার্বনবান্ধব ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত একটি কনফারেন্সে যোগ দিতে তিনি প্যারিস যাচ্ছেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এরই মধ্যে ওই কনফারেন্সে যোগ দিতে ফ্রান্সে রয়েছেন। ফ্রান্স সরকার এ কনফারেন্সের ব্যয়ভার বহন করছে বলে গৃহায়ন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মন্ত্রী এবং সচিবের এই সফর পূর্বনির্ধারিত। কয়েকদিন আগেই ভিসাও হাতে পেয়েছেন সচিব ওয়াছি উদ্দিন। তাঁর দেশে ফেরার কথা ১১ মার্চ। এর দুদিন আগে (৯ মার্চ) তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
সচিব ওয়াছি উদ্দিনের স্বাভাবিক অবসরে যাওয়ার কথা ছিল গত বছর মার্চে। কিন্তু গত বছর ৯ মার্চ তাঁকে এক বছরের জন্য গণপূর্তসচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নবীরুল ইসলামকে আজ মঙ্গলবার গণপূর্তসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে ৯ মার্চ শনিবার হবে সচিব ওয়াছি উদ্দিনের শেষ কর্মদিবস। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অবসরের পরদিনও সরকারি সফরে বিদেশে থাকবেন কি না?
চাকরিজীবনের শেষ সময়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে এর আগেও আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অবসরে যাওয়ার পর তাঁর সরকারকে আর কিছু দেওয়ার সুযোগ থাকে না। সেখানে সচিব বিদেশ সফরে না গিয়ে অন্য কোনো কর্মকর্তাকে পাঠালে সেটি দেশের জন্য ভালো হয়।
এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, অবসরে যাওয়ার তিন দিন আগে সচিবকে বিদেশ সফরের অনুমতি দেওয়া ঠিক হয়নি। এটি এক ধরনের অনিয়ম। এ সম্মেলনে যোগ দিয়ে তাঁর কোনো উপকারে আসবে না। দেশেরও উপকারে আসবে না। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি কীভাবে সরকারি কাজে দেশের বাইরে থাকেন? [সমকাল]