কথাতেই আছে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। এরপরও কেউ কেউ আবার একটু বেশিই মাছ প্রিয়। ফলে দিনের প্রতিবার খাবারেই মাছ রাখেন খাদ্যতালিকায়। মাছ খাওয়া অবশ্য উপকারী। কিন্তু এমন অনেকে আছেন সকালের নাশতার পদেও মাছ রাখেন। তারপরই শুরু করেন দিনের বাকি কর্মকাণ্ড।
এদিকে অনেকেরই প্রশ্ন, সকালের নাশতায় বা খাবারে মাছ রাখা কতটা উচিত? সকালে মাছ খেলে কি তা হজম হয়? এতে কি উপকার, না ক্ষতিকর? এ ধরনের যখন নানা প্রশ্ন, তখন বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন কলকাতা শহরের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার। এবার তাহলে বিষয়টি নিয়ে জেনে নেয়া যাক।
পুষ্টিগুণে ভরপুর: মাছ এমনই প্রাণিজ খাবার, যা প্রথম শ্রেণির প্রোটিন উৎস। এতে বিদ্যমান প্রোটিন খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারে শরীর। আবার মাঝে উপকারী সব ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে। ফলে নিয়মিত মাছ খাওয়ার ফলে শরীর সুস্থ থাকে। একইসঙ্গে ছোট ছোট নানা ধরনের অসুখ থেকেও দূরে থাকা যায়। এ জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ রাখা যায়।
সকালের নাশতায় কি মাছ খাওয়া যায়: এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার বলেন, মাছ খুবই পুষ্টিকর খাবার এবং সহজপ্রাচ্য। এ কারণে মাছ দিয়ে দিনের যেকোনো সময়ের খাবার খাওয়া যায়। তাই চাইলে যে কেউ সকালে মাছ খেতে পারেন। এই প্রাণিজ খাবার খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। আবার শরীরে পুষ্টি ও শক্তির ঘাটতি থাকারও আশঙ্কা থাকবে না।
ছোট মাছ রাখুন: মাছ পছন্দের হওয়ায় অনেকেই বাজার থেকে বড় আকারের মাছ কিনেন। এমনটা ঠিক নয়। বড় আকারের মাছে প্রচুর ফ্যাট থাকে। যা কিনা শরীরের বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রাখে। এ জন্য চেষ্টা করুন বড় মাছের বিপরীতে ছোট মাছ খাওয়ার। তাতেই সুস্থ থাকবেন।
কী পরিমাণ খেতে হবে: একজন মানুষের প্রোটিনের চাহিদা নির্ধারণ করা হয় তার ওজন ও উচ্চতার ওপর ভিত্তি করে। এ জন্য ঠিক কী পরিমাণ মাছ খাওয়া উচিত, তা অল্প সময়ে বলা সম্ভব নয়। তবে একজন সুস্থ মানুষ দিনে ১৫০ গ্রাম পরিমাণ মাছ খেতে পারেন। প্রতিবেলা ৭৫ গ্রাম করে দুইবেলায় এই পরিমাণ খেতে পারেন। এতে উপকার মিলবে।
ঝাল-মশলাযুক্ত নয়: মাছ খেয়ে উপকার পেতে অবশ্যই তা ঝাল ও মশলামুক্ত হতে হবে। ঝাল ও মশলা শরীরের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। আপনার কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে। আবার হার্টের অসুখও পিছু নিতে পারে। এ জন্য যতটা সম্ভব কম তেল, মশলা দিয়ে মাছ রান্না করুন।