শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন চায় অন্তর্বর্তী সরকার। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। এরমধ্যে অন্যতম অনার্সের কারিকুলামে পরিবর্তন। চার বছরের কোর্সে তিন বছর সাধারণ ও বিষয়ভিত্তিক পাঠ এবং এক বছর বিষয়ভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা বা হাতে-কলমে শিক্ষা। যেসকল শিক্ষার্থী সাধারণ বিষয়ে অধ্যয়নরত থাকবেন তাদের জন্য স্পেশালাইজড কোর্সের ব্যবস্থার পরিকল্পনা চলছে। শিক্ষা সংস্কারে সম্ভাব্য কমিশন এই পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করবে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের লক্ষ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরিই এর প্রধান লক্ষ্য। এজন্য অনার্সের অধ্যয়ন চার বছরের জায়গায় তিন বছর করার চিন্তা করা হচ্ছে। আর এক বছর হবে কারিগরি শিক্ষার পাঠ। এতে কর্মমুখী শিক্ষার প্রাথমিক ধারণা দেয়া হবে শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পরিকল্পনায় রয়েছে। এটি নিয়ে নীতিনির্ধারকরা ইতিবাচক মনোভাব দেখালে এনিয়ে পরিকল্পনা করা হবে। এজন্য আলাদা একটি গ্রুপ করে দায়িত্বও দেয়া হতে পারে। সিলেবাসের ধরন সম্পর্কে জানা যায়, এখনো কোনো ধরনের পরিকল্পনা হয়নি। তবে এর প্রধান লক্ষ্য থাকবে শিক্ষিত বেকার তৈরি না করা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানায়, এমন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কোনো পরিকল্পনা কমিশনে আসেনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে পরিবর্তন আনার কথা বলেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সমপ্রতি এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টির দায়িত্ব পাওয়া ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সংস্কার আনা হচ্ছে। দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, যা আমরা পরিবর্তন করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস এবং কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে, যাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা দেশের পাশাপাশি বিদেশে ভালো চাকরি পেতে সক্ষম হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা কলেজগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষার জন্য আইসিটি শিক্ষা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। প্রতিটি কলেজে আইসিটি ব্যবহার সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ-উদ-দৌলা খান বলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে এটি সর্বসম্মত হলে তা বাস্তবায়ন হবে। এদিকে মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার নানা পরিবর্তনের কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে আইসিটি বিষয়টি সেভাবে যুগোপযোগী হয়নি। বিশ্বব্যাপী আইসিটি বিষয়টি যে পর্যায়ে চলে গেছে, সে অনুযায়ী আপডেট হয়নি। এটাকে সেভাবে আপডেট করা না গেলে টেকনিক্যাল বিষয়ে আমরা সেভাবে কোয়ালিটিসম্পন্ন ছেলেমেয়ে পাবো না। এই জায়গায় কাজ হচ্ছে। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষাকে একেবারে আপ-টু-ডেট করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ক্রিয়েটিভিটিকে মূল্যায়ন না করে মুখস্থবিদ্যায় বেশি গুরুত্ব দেয়। এটার পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যাতে বিশেষায়িত শিক্ষার ওপর জোর দিতে পারে সে রকম শিক্ষাব্যবস্থার দিকে নজর দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে পরিচিত মেধাবী ও দক্ষতাসম্পন্ন লোকদের নিয়ে শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। তারাই এর সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন।
mzamin.com