শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ন




গাজায় যুদ্ধ সম্প্রসারণে ইসরাইল জুড়ে বিক্ষোভ, চাপে নেতানিয়াহু

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫ ৫:০৪ pm
Israel Palestine Jerusalem Gaza Strip প্যালেস্টাইন ইসরায়েল ফিলিস্তিন উপত্যকা গাজা ভূখণ্ড শহর ইসরাইল ফিলিস্তিনি ইসরায়েল
file pic

গাজায় যুদ্ধ দীর্ঘ করার পরিকল্পনার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে ইসরাইলের নাগরিকরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন জিম্মি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। এসব জিম্মির ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, গত শুক্রবার ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা যুদ্ধ শেষ করতে পাঁচটি নীতিমালা অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে গাজা শহরের ওপর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। তবে বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ জিম্মিদের জীবনকে আরও বিপদের মুখে ফেলবে।

জেরুজালেমে বিক্ষোভরত এক নারী বিবিসিকে বলেন, আমরা যুদ্ধের অবসান চাই, কারণ আমাদের প্রিয় মানুষরা ওখানে মরছে। এখনই তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। যুদ্ধ থামাতে যা দরকার, তাই করতে হবে। একই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাবেক এক সেনা ম্যাক্স ক্রেশ বলেন, তিনি যুদ্ধের শুরুতে সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন, কিন্তু এখন আর এই রাজনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাজি নন। তিনি জানান, তার মতো অন্তত ৩৫০ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা সদস্য এখন যুদ্ধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

তেলআবিবে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে জিম্মি পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অন্যান্য সেনাদেরও এই সম্প্রসারিত সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জিম্মিদের একজনের মা দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করেছেন, যদিও ইসরাইলের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন এটি সমর্থন করেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনার সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ আমাদের জিম্মিদের মুক্ত করতে সাহায্য করবে।

তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে বলেছেন, পুরো গাজা দখল করা হবে একটি ফাঁদে পা দেওয়া এবং তা জীবিত জিম্মিদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গবেষণা জরিপ অনুযায়ী, বেশিরভাগ ইসরাইলি নাগরিক হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধের অবসান চায়।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা গাজা শহরের সম্পূর্ণ সামরিক দখলকে মানবিক বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে গাজায় খাদ্যের অভাবে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস-শাসিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গাজায় এখন পর্যন্ত অপুষ্টিতে ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০০ জনই শিশু। ইসরাইল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এর জন্য দায়ী হামাস। তবে জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জুলাই মাসে জানিয়েছেন, দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ইতিমধ্যেই গাজায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

গাজায় সাংবাদিকদের প্রবেশে ইসরাইল নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, ফলে স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নিন্দা জোরালো হয়েছে। জার্মানি ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে। এদিকে রোববার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ইসরাইলের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD