উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণ (খাতা চ্যালেঞ্জ) ফল রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৫-এর পুনঃনিরীক্ষণের ফল ১৬ নভেম্বর (রোববার) সকাল ১০টায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এ ছাড়া আবেদনকারীর দেয়া মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
ঢাকা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঢাকা বোর্ডে খাতা চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে। এতে আবেদন করেছেন ৬৬ হাজার ১৫০ জন পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন পড়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৫০৬টি খাতা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে। এতে আবেদন করেছেন ৮ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন পড়েছে ১৭ হাজার ৪৮৯টি খাতা।
এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছেন ২২ হাজার ১৫০ জন পরীক্ষার্থী, মোট চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে ৪২ হাজার ৪৪টি খাতা। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজার ৯২৪ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করা হয়েছে, মোট আবেদন করা হয়েছে ৩৬ হাজার ২০৫টি খাতা। যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছেন ২০ হাজার ৩৯৫ জন পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন করা হয়েছে ৩৬ হাজার ২০৫টি খাতা। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করেছেন ২২ হাজার ৫৯৫ জন পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন করা হয়েছে ৪৬ হাজার ১৪৮ টি খাতা।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করেছেন ১৩ হাজার ৪৪ জন পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন করা হয়েছে ২৩ হাজার ৮২০ টি খাতা। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৩১৮ জন পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন করা হয়েছে ২৯ হাজার ২৯৭ টি খাতা। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করেছেন ১৫ হাজার ৫৯৮ জন পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন করা হয়েছে ৩০ হাজার ৭৩৬ টি খাতা।
অন্যদিকে বিএম-ভোকেশনালে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করেছেন ১২ হাজার ৭ জন পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন করা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৮ টি খাতা। আর আলিমে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করেছেন সাত হাজার ৯১৬ জন পরীক্ষার্থী, মোট আবেদন করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৩৩ টি খাতা।
উল্লেখ্য, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত ১৭ অক্টোবর, যা শেষ হয় ২৩ অক্টোবর।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, এবার শুধু অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো এবার এসএমএসের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়নি। সরাসরি কোনো শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো অফিসেও আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশ করা হয়। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থী।
গতবারের (৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ) তুলনায় এবার পাসের হার ১৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে, পাশাপাশি জিপিএ-৫ কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪টি। ফল বিপর্যয়ের কারণে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১১ লাখ আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২৬ জুন শুরু হয়ে ১৯ আগস্ট শেষ হয় এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২১ থেকে ৩১ আগস্ট। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।