বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন




নেজামে ইসলাম পার্টির ইফতারে জামায়াত আমির

নেজামে ইসলাম পার্টির ইফতারে জামায়াত আমির: গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির আপত্তি কেন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬ ৯:১৯ pm
Bangladesh Jamaat-e-Islami amir dr Shafiqur rahman জামায়াত ইসলামী আমির ডা শফিকুর রহমান Jammat Amir amir
file pic

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির আপত্তি কেন? শুরুতেই জাতির সঙ্গে দেওয়া অঙ্গীকার যদি বিএনপি ভঙ্গ করে তাহলে পাঁচ বছর সেই অঙ্গীকার রক্ষা করবে কীভাবে?

তিনি বলেন, এখনো সময় আছে, বিএনপি নিজেদেরকে সংশোধন করে এই জনরায়কে মেনে নিক। কারণ-৬৯ ভাগ মানুষ সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। এই ৬৯ ভাগ মানুষকে অগ্রাহ্য করা মানে গোটা জুলাইকে অগ্রাহ্য করা। আর জুলাই না থাকলে এ ধরনের ইফতার মাহফিল, সংসদ নির্বাচন, যমুনা ও প্রধান বিরোধীদলের বাসভবনও নেই। জুলাই থাকলে সব আছে, না থাকলে কিছুই নেই।

রোববার রাজধানীর কাকরাইলে হোটেল রাজমনি ঈশা খাঁয় জাতীয় নেতা, আলেম, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্মানে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বিএনপিকে অনুরোধ করে বলেন, যা স্বাক্ষর করেছিলেন, তাই মেনে নেন। তাহলে জনগণের আস্থার জায়গাটা টিকে থাকবে। আর আস্থা না থাকলে জনগণকে আপন পথে হাটতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক কষ্ট বুকে চেপে রেখে এই নির্বাচনের রায় আপাতত মেনে নিয়েছি। অতীতের ধারাবাহিকতায় সঙ্গে সঙ্গে আমরা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করতে পারতাম। তাহলে কি হতো, সেটা আমাদের সামনে বিবেচনায় ছিল বলেই আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু তার মানে এই নয়, সব অন্যায়কে মেনে নেবো। অন্যায় করলেই বাধা হয়ে দাঁড়াবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, জনগণ যাদেরকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাতে চেয়েছে, সেই ভোটের ফলাফলকে হাইজ্যাক করা হয়েছে। অনেকের অধিকার হরণ করা হয়েছে। আমরা আইনিভাবে, রাজপথে এবং সংসদে এর বিরুদ্ধে লড়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মানের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের হামলা শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হয় এবং বিশ্ব শান্তি বজায় থাকে।

ইফতার মাহফিলে রক্তস্নাত জুলাই বিপ্লবের পর দেশের মানুষ নতুন সরকারের কাছে সহিংসতা নয়, বরং সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করেন নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা।

তারা বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ঘোষিত ফলাফল নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দৃশ্যমান আয়োজনের আড়ালে সন্ধ্যার পর কিছু ক্ষেত্রে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশিত ছিল। জনগণ তাদের ব্যালটের অধিকার ফিরে পাওয়ার আশা করলেও ১২ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফলাফল সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বলেও দাবি করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্টির আমির আল্লামা সারোয়ার কামাল আজিজী এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব ডা. মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস খান। ইফতার মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য দেন পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার।

এ বিশ্ব শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি-এর হত্যাকাণ্ডকে নিকৃষ্ট ও বর্বরোচিত সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক মামুনুল হক বলেন, শহীদ ওসমান হাদী হত্যাসহ দেশের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের চেতনা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো ষড়যন্ত্র হলে জনগণ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন-এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, এনসিপির সদস্য সচিব মো. আখতার হোসেন এমপি, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মাওলানা ঈসা শাহেদী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, মাওলানা আব্দুল্লাহ হাসান, মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী, ড. খলিলুর রহমান আল-মাদানী, মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD