শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৪২ অপরাহ্ন




অবকাঠামোগত সমন্বয়হীনতায় রপ্তানি সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ ৬:২৩ pm
LC এলসি container exports বন্দর আমদানি বাণিজ্য import trade trade Export Promotion Bureau EPB Export Market বাণিজ্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি trade Export Promotion Bureau EPB Export Market বাণিজ্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি
file pic

ডিসিসিআই
লজিস্টিক খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার কারণে রপ্তানি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

শনিবার (৯ মে) ডিসিসিআইয়ের কার্যালয়ে ‘বাণিজ্য নির্ভর বাংলাদেশের জন্য সমন্বিত বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এ কথা বলেন ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, আমাদের লজিস্টিক খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার কারণে রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে, আমরা প্রতিনিয়ত প্রতিযোগী দেশগুলো হতে পিছিয়ে পড়ছি। এছাড়াও বন্দরগুলোতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসময়, সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে ধীরগতি এবং আধুনিক কোল্ড-চেইন লজিস্টিকসের সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের সামগ্রিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাকে ব্যয়বহুল ও মন্থর করতে তুলছে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, সমন্বিত বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনায় আমরা বেশ পিছিয়ে রয়েছি, যা ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। এখাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার উপর তিনি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, আমাদের জিডিপিতে উৎপাদনমুখী খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। উৎপাদনমুখী খাতের অবদান আরো বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরো জোরারোপ করা আবশ্যক। গত চার দশকে বাংলাদেশের রপ্তানিতে আমূল ইতিবাচক পরিবর্তন আসলেও আমাদের রপ্তানি মূল গুটিকয়েক পণ্য ও বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই।

মাসরুর রিয়াজ জানান, আমাদের বিদ্যমান লজিস্টিকস খরচ ২৫ শতাংশ হ্রাস করা গেলে রপ্তানি ২০ শতাংশ বাড়বে এবং পণ্য পরিবহন ১ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব হলে রপ্তানি ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের লজিস্টিকস খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে লজিস্টিক নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের বিদেশি কোম্পানির পাশাপাশি দেশীয় বেসরকারিখাতের প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্তকরণ, চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার খালাসের সময়সীমা কমানো, সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালার প্রতিবন্ধকতা নিরসনের একান্ত অপরিহার্য।

আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব (সাবেক সদস্য, প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, শাহরিয়ার স্টিল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার হুমায়ুন কবির এবং বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ-এর সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ বাবী প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে সম্প্রসারণের তেমন সুযোগ নেই, তাই আমাদেরকে রেলপথ একমাত্র ভরসা এবং বন্দরের সঙ্গে রেলপথের সংযোগ স্থাপন করতে হবে, যেন স্বল্প সময় ও ব্যয়ে পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে। দেশের সমুদ্রবন্দর গুলোর অন্তত ১টি পরিচালনার জন্য বেসরকারিখাতকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করেন, যার মাধ্যমে এখাতে বর্তমানে নিয়োজিত সরকারি সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতার মুখোমুখি পড়বে, ফলে সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যমান শুল্কহার কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ বাবী বলেন, দেশের কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া এখনও সহজীকরণ এবং আধুনিকায়ন করা হয়নি। বিশেষ করে স্থলবন্দরগুলোর কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা যায়নি। ফলে বিশেষকরে পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রিতা আমাদের ব্যবসা পরিচালন ব্যয় ক্রমশ বাড়াচ্ছে।

বৈঠকে ডিসিসিআই’র সিনিয়র সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, দেশের লজিস্টিক খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রতিষ্ঠানগত সমন্বয়হীনতা রফতানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। বন্দরগুলোতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, সড়ক ও রেলপথে ধীরগতির পরিবহন ব্যবস্থা এবং আধুনিক কোল্ড-চেইন সুবিধার ঘাটতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যয়বহুল ও মন্থর হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বন্দরগুলোতে পেপারলেস ও অটোমেটেড ব্যবস্থা চালু, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক কোল্ড-চেইন লজিস্টিকসে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব (প্রাক্তন সদস্য, প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত। তাই পণ্য পরিবহনে রেলপথকে অগ্রাধিকার দিয়ে বন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ বাড়াতে হবে। তিনি দেশের অন্তত একটি সমুদ্রবন্দর বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালনার প্রস্তাবও দেন। এতে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি খরচ কমতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নকে সমন্বিত না করা গেলে দেশ পিছিয়ে পড়বে। পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি বলে তিনি মত দেন।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিষ্ট নুসরাত নাহিদ বাবী বলেন, দেশের কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি সহজীকরণ ও আধুনিকায়ন করা হয়নি। বিশেষ করে স্থলবন্দরগুলোতে ডিজিটাল ব্যবস্থা না থাকায় পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে এবং ব্যবসা ব্যয় বাড়ছে।

এডিবির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ধীরাশ্রম আইসিডি কনটেইনার ডিপো এবং একটি মাল্টিমোডাল লজিস্টিক হাব প্রকল্প বাস্তবায়নে এডিবি কাজ করছে। একইসঙ্গে লজিস্টিক সেবার প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD