ভারতে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নয়াদিল্লি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৯ মে) জাপান ও থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়গুলোও দলটি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পশ্চিমবঙ্গসহ বিশ্বের যেকোনো স্থানে নিরীহ জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন হলে তারা তার বিপক্ষে থাকবেন। এমনকি কোনো গোষ্ঠী তাদের ক্ষতি করে থাকলেও, সেই গোষ্ঠী যদি নির্যাতিত হয়, তাহলে তারা মজলুমের পক্ষেই অবস্থান নেবেন।
তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ। তাই সে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার ভোগের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। বিশেষ কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠীকে টার্গেট করে যেন ক্ষতি সাধন করা না হয় এ বিষয়ে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুশইনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়গুলো আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যদি এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে জামায়াতের ভূমিকা জনগণ দেখতে পাবে। তিনি বলেন, কোনো অন্যায়ের ব্যাপারেই তারা নীরব থাকবেন না। প্রতিবেশী দেশকে সম্মান করা হলেও কেউ বাংলাদেশকে অপমান করুক সেটিও তারা চান না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের তিন মাস পরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকাণ্ড ঘটছে। নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ঘটনায় জড়িত কারা, তারা কোথায় পালিয়ে যায় এবং কারা আশ্রয় দেয় এসব খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু ফেসবুকে কথার যুদ্ধ চালিয়ে গেলে হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার অতিরিক্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, রাজনৈতিক জায়গা দখলের চেয়ে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।