অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল। এর মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন সাবেক এই ড্যাশিং ওপেনার। একই সঙ্গে বিসিবির নতুন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম সিনহা।
রোববার (৭ জুন) মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। নির্বাচনের প্রথম ধাপে ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে রেকর্ড সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন তামিম ইকবাল। এরপর নবনির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
ক্যাটাগরি-২ বা ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই ক্যাটাগরিতে মোট ভোটার ছিলেন ৭৬ জন, যার মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭৪ জন। নির্বাচনে ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে অংশ নেয়া জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল সর্বোচ্চ ৭৩টি ভোট পেয়ে পর্ষদে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছেন।
এরপর পরিচালক পর্ষদ গঠনের পর বোর্ড রুমে বসে সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া। তবে এই পদে তামিম ইকবাল ছাড়া আর কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। সর্বসম্মতিক্রমে তামিমকেই পরবর্তী মেয়াদের জন্য বিসিবি প্রধান ঘোষণা করা হয়।
ক্যাটাগরি-২ থেকে তামিম ইকবাল ছাড়াও পরিচালক পদে বড় জয় পেয়েছেন আরও ১১ জন সংগঠক। তারা হলেন- সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ (৭২ ভোট), ইশরাফিল খসরু (৭২ ভোট), মাসুদুজ্জামান (৭০ ভোট), ফয়সাল ইয়াসির (৬৮ ভোট), ফাহিম সিনহা (৬৬ ভোট), শানিয়ান তানিম (৬৬ ভোট), আসিফ রাব্বানী (৬৪ ভোট), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (৬৩ ভোট), রফিকুল ইসলাম বাবু (৫৩ ভোট), ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম (৪১ ভোট) ও সাকেফ আহমেদ সালাম (৪১)।
এদিকে, ১২ জন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ায় এই পদের লড়াই থেকে ছিটকে গেছেন ৪ জন প্রার্থী। তারা হলেন- সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু (৪০ ভোট), মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন (৩২ ভোট), ফায়াজুর রহমান মিতু (২৩ ভোট) ও মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ (২০ ভোট)।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তার অধীনেই ৩ মাসের মধ্যে এই নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে ঠিক দুই মাসের মাথায় একটি সফল ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন উপহার দিয়ে নিজেই এখন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ পদে আসীন হলেন। ক্রিকেটার থেকে সরাসরি বোর্ড সভাপতি হওয়ার এই নজির বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক অভিনব ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করল।