মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন




বেহাল উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৩ মে, ২০২৩ ১০:৪১ am
Upazila Health Complex স্বাস্থ্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
file pic

দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা বিরাজ করছে। এসব হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ানসহ পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও তা পড়ে আছে অযত্নে।

কোথাও এসব মূল্যবান যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বছরের পর বছর তালা ঝুলছে অপারেশন থিয়েটারে। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার রোগী ও তাদের স্বজনেরা। চাহিদামতো সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় তারা রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অপারেশন থিয়েটারও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধান এবং জনবল বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তারা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, এক্স-রে রুমের সামনে ময়লার ভাগাড়। বছরের পর বছর ধরে এখানে কোনো এক্স-রে হয় না। হাসপাতালসংশ্লিষ্টরা জানান, এক্স-রে মেশিন ঠিক থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। একই অবস্থা ইসিজির ক্ষেত্রেও। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন থাকলেও তা নষ্ট। অপারেটর না থাকায় পড়ে আছে আলট্রাসনোগ্রাফি ও ব্লাড অ্যানালাইজার মেশিন।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি অ্যানালগ এক্স-রে মেশিন ও একটি ডিজিটাল রয়েছে। অ্যানালগ ৩টির মধ্যে ২টি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। ডিজিটাল মেশিনটি এক বছর আগে আনা হলেও এখন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় প্রায় পাঁচ বছর আগে। শয্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পদ সৃষ্টি হলেও আজও কোনো বিভাগে লোকবল বাড়ানো হয়নি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নেই এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও এমটি রেডিওগ্রাফার। ফলে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে এক্স-রে মেশিন ও ডিজিটাল মেডিকেল ল্যাব।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক যুগ ধরে তালা ঝুলছে অপারেশন থিয়েটারে। সব যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনিশিয়ান আর বিশেষজ্ঞ ডক্তারের অভাবে বন্ধ রয়েছে এটি। আল্ট্রাসনোগ্রামও হয় না এখানে। হঠাৎ যদি কারও হৃদরোগ দেখা দেয় তাকে নিয়ে স্বজনদের দৌড়াতে হয় জেলা হাসপাতালে।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৩৮ বছরেও চালু হয়নি অপারেশন থিয়েটার। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অপারেশন থিয়েটারে সব ধরনের যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ চিকিৎসকের অভাবে অস্ত্রোপচার ও সিজার হচ্ছে না। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রপাতির অভাবে ১৫ বছরেও দাঁতের চিকিৎসা হয়নি। দুজন ডাক্তার রয়েছেন এই বিভাগে। তারা শুধু রোগীদের পরামর্শ দেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD