সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন




শিশু দিবস

শিশু দিবস: ডিভাইস ছাড়া কি শিশুকে বড় করা সম্ভব?

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০২৩ ৫:৩১ pm
International Children's day Children বিশ্ব শিশু দিবস বিশ্ব-শিশু-দিবস boy Smartphone samrt phone baby মোবাইল ফোন মোবাইলফোন স্মার্ট ফোন অ্যাডিকশন স্মার্টফোন আসক্তি শিশু কিশোর কিশোরী
file pic

আনায়া তাবাসসুমের বয়স দুই বছর। খাওয়ার সময় তো বটেই, কোথাও ঘুরতে গেলেও তার হাতে থাকে মোবাইল ফোন। এতে তাকে শান্ত রাখা সম্ভব হলেও দিনদিন আনায়ার ব্যবহারে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা দেখছেন মা রোকেয়া ইসলাম। যেমন অচেনা লোক দেখলেই ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া বা অকারণে জেদ করা। বিষয়টা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

যুগটা স্মার্টফোনের। ডিভাইস তাই সব মানুষের হাতে হাতে। প্রযুক্তির প্রতি এই নির্ভরশীলতার কারণে আমাদের সন্তানরাও অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে ডিভাইসে। ডিভাইস আসক্তির ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর মানসিক বিকাশ। এছাড়া মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন শিশুর মস্তিষ্কের যেমন ক্ষতি করছে, তেমনি গ্যাজেটের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের চোখ। এছাড়া স্ক্রিনের দিকে নিবিষ্ট হয়ে তাকিয়ে থাকার কারণে সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা গড়ে উঠছে না শিশুদের মধ্যে।

ডিভাইস একেবারেই না দিয়ে কি শিশুকে বড় করা সম্ভব?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সিফাত ই সাইদ বলেন, এই ব্যস্ততার যুগে শিশুকে ডিভাইস একেবারেই না দিয়ে বড় করাটা আসলে বেশ কষ্টকর। ডিভাইস দেওয়া যাবে, তবে সেটা যেন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে-সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে বাবা-মাকেই।

ডা. সিফাত জানালেন কোন কোন বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তারপর ডিভাইস দেবেন শিশুর হাতে।

১। প্রথমত শিশুকে ডিভাইস দেওয়া যাবে, তবে ইন্টারনেট সংযোগসহ ডিভাইস দেবেন না। ইন্টারনেট সংযোগসহ ডিভাইস শিশু হাতে পেলে ক্রমাগত স্ক্রল করতে থাকে।এতে কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমতে থাকে শিশুর। এছাড়া এতে শিশু এমন কিছু কনটেন্ট দেখে ফেলতে পারে যা একেবারেই তার বয়স উপযোগী নয়। শিশুর সামনে ইন্টারনেট বা ওয়াইফাই অন করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। শিশু যেন দেখে দেখে ইন্টারনেট অন করা শিখে না ফেলে।

২। শিশুকে মোবাইলের পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন লক জানাবেন না। কোনোভাবে শিশু জেনে গেলে সেটা পরিবর্তন করে ফেলুন।

৩। শিশুকে বাছাই করা কিছু ভিডিও দেখতে দিন। আমাদের সংস্কৃতির সাথে উপযোগী এসব ভিডিও নামিয়ে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবে রেখে দিন। এগুলোই শিশুকে দেখতে দিন। এক মাস পর পর নতুন ভিডিও ডাউনলোড করবেন।

৪। শিশু যখন ভিডিও দেখবে তখন তার সঙ্গে গল্প করার চেষ্টা করুন। একদৃষ্টে নিবিষ্টমনে যেন সে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থাকে। যেমন যদি সে বেবি সার্ক গান দেখে তবে তাকে বলুন দেখো তো কতগুলো সার্ক, বলতো ওদের গায়ের রঙ কী?

৫। শিশুর স্ক্রিন টাইম নির্দিষ্ট করে দিন। এরপর জেদ করলেও তাকে আর দেখতে দেবেন না ডিভাইস।

৬। শিশু যখন ডিভাইস দেখবে তখন তার আশেপাশে থাকার চেষ্টা করুন। একেবারে আলাদা রুমে তাকে ডিভাইস দিয়ে বসিয়ে দেবেন না। যদি সেটা সম্ভব না হয় হবে টিভি দেখতে দিন, ল্যাপটপ বা মোবাইল নয়।

৭। বেড়াতে নিয়ে গেলে শিশুকে ডিভাইস দিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করবেন না। তাকে সবার সাথে মিশতে দিন, নিজেরা গল্প করুন। প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয় তাকে চেনান, অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলার সুযোগ দিন।

৮। স্ক্রিন দেখিয়ে শিশুকে খাওয়ানোটা ক্ষতিকর। যদি একেবারেই সম্ভব না হয়, তবে চেষ্টা করুন অন্তত এক বেলা যেন সে স্ক্রিন না দেখে খায়।

৯। শিশু নির্দিষ্ট সময় ডিভাইস দেখুক, সমস্যা নেই। তবে বাকি সময়ে শিশুর সঙ্গে প্রচুর গল্প করুন। তাকে নানা ধরনের অ্যাক্টিভিটি করতে দিন। বই কিনে দিন ও পড়ে শোনান।

১০ শিশুর হাতে নিজস্ব মোবাইল ফোন বা ডিভাইস দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই।

১১। শিশুর সামনে নিজেরা ডিভাইস কম ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। এটা শিশুর স্ক্রিন আসক্তি রোধ করার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD