চলছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ আসর। আজই শেষ হবে টুর্নামেন্টটির লিগ পর্বের খেলা। এরই মধ্যে একাধিক বিতর্কে জর্জরিত দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টটি। এসবের মাঝে আবার সন্দেহ তৈরি হয়েছে ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ) অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের খবর এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আটটি ম্যাচ স্পট-ফিক্সিং এবং ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের সন্দেহে চিহ্নিত করেছে।
প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি নিজের ফেসবুকে ওই ম্যাচগুলোর তারিখ এবং দলগুলোর নাম উল্লেখ করে একটি পোস্ট করেছেন। তার পোস্টে উল্লেখ করা ম্যাচগুলো হলো, ফরচুন বরিশাল বনাম রাজশাহী (৬ জানুয়ারি), রংপুর রাইডার্স বনাম ঢাকা (৭ জানুয়ারি), ঢাকা বনাম সিলেট (১০ জানুয়ারি), রাজশাহী বনাম ঢাকা (১২ জানুয়ারি), চট্টগ্রাম বনাম সিলেট (১৩ জানুয়ারি), বরিশাল বনাম খুলনা টাইগার্স (২২ জানুয়ারি), চট্টগ্রাম বনাম সিলেট (২২ জানুয়ারি) এবং রাজশাহী বনাম রংপুর (২৩ জানুয়ারি)।
জুলকারনাইন লেখেন, বিপিএলের ২২% ম্যাচ পাতানো বা ফিক্সড বলে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক বেটিং নজরদারি একটি সংস্থা যা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আটটি ম্যাচকে বেটিং এর জন্যে পাতানো বলে তারা বিসিবিকে জানিয়েছে। যেসকল ক্রিকেটার এবার সহ আগের বিপিএলগুলোতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিলো বলে দাবি করা হয়েছে, তাদের তালিকা কমেন্টে।
এছাড়া তিনি তিনটি তালিকা প্রকাশ করেন। যেখানে ১৩ জন দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারের নাম উঠে আসে। যারা চলমান বিপিএলসহ পূর্বের কয়েকটি বিপিএলে ম্যাচ-ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
| নাম | দেশ | ম্যাচ |
| এনামুল হক বিজয় | বাংলাদেশ | ৭ |
| আন্দ্রে ফ্লেচার | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ২ |
| আরিফুল হক | বাংলাদেশ | ৮ |
| বেনি হাওয়েল | ইংল্যান্ড | ৪ |
| বিলাল খান | ওমান | ৪ |
| চ্যাডউইক ওয়ালটন | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ২ |
| চতুরঙ্গ ডি.সিলভা | শ্রীলঙ্কা | ২ |
| কলিন ইনগ্রাম | দক্ষিণ আফ্রিকা | ১ |
| দানুশকা | শ্রীলঙ্কা | ১ |
| গুনাথিলাকা দরবেশ রাসুলি | আফগানিস্তান | ২ |
| দেলোয়ার হোসেন | বাংলাদেশ | ২ |
| আল-আমিন হোসেন | বাংলাদেশ | ৯ |
| আলাউদ্দিন বাবু | বাংলাদেশ | ৫ |
এদিকে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট অন্তত ১০ জন খেলোয়াড় ও চার ফ্র্যাঞ্চাইজিকে মনিটর করছে। ১০ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, দুইজন বয়সভিত্তিক পর্যায়ের বাংলাদেশি খেলোয়াড় এবং দুইজন বিদেশি ক্রিকেটার। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মধ্যে, দুর্বার রাজশাহী এবং ঢাকা ক্যাপিটালসের সবচেয়ে বেশি ১২টি রেড ফ্ল্যাগ (সন্দেহজন কর্মকান্ড)। সিলেট স্ট্রাইকার্সের ছয়টি এবং চট্টগ্রাম কিংসের রয়েছে দুটি।