রমাদানের পর আসে শাওয়াল মাস। এই মাসের গুরত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে ছয় রোজা। রমাদানের ফরয রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখা মুস্তাহাব।
▪️ফাজায়েল:
এই রোজার অনেক ফজিলত রয়েছে যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল ( ﷺ ) নিজেও এ রোজা রাখতেন। সাহাবায়ে কেরামদেরকেও রাখার নির্দেশ দিতেন। ঈদুল ফিতরের দিন বাদে পুরো শাওয়াল মাসে ৬টি নফল রোজা রাখলে এক বছর নফল রোজার ছওয়া পাওয়া যায়।
আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমাদানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’
(সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২/৮২২)
মুসলিমরা রমাদানের ফরয রোজা পালনের পর যাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন, এ জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতদেরকে শাওয়ালের ছয় রোজা পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।
সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমাদানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দু’ মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।’
(সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ২/১৬২)
মহান আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে বলেন, ‘যে একটি সৎকাজ করবে, সে তার ১০ গুণ সওয়াব পাবে।’
(সূরা আনআম, আয়াত: ১৬০)
উপরোক্ত আয়াতের আলোকে ওলামা কেরামগণ শাওয়ালের ছয় রোজাকে এভাবে মূল্যায়ন করেছেন যে, রমাদানের ৩০ রোজা আর শাওয়ালের ছয়টিসহ মোট ৩৬টি রোজা হয়। পুণ্যময় কাজের সওয়াব ১০ গুণ বৃদ্ধির কথা কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে। অতএব ৩৬কে ১০ গুণ বৃদ্ধি করলে ৩৬০ হয়। সুতরাং বছরে ৩৬টি রোজা রাখলে যেন পূর্ণ বছর অর্থাৎ ৩৬০ দিনই রোজা রাখা হয়।
মু’মিনদের জেনে রাখা ভাল, কোন রমাদান মাস যদি ২৯ দিন হয়, তাহলেও আল্লাহ তা’আলা রোজাদারকে ৩০ দিনেরই সওয়াব দান করেন।
▪️মাসায়েল:
ঈদের পরদিন থেকে পুরো শাবান মাসে এ ছয়টি রোজা পালন করা যায়। শাওয়ালের ছয় রোজা একাধারে অথবা বিরতি দিয়ে অর্থাৎ ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়।
কারও যদি রমাদানের কাজা রোজা থেকে থাকে, তাহলে প্রথমে রমাদানের কাজা আদায় করা উচিত। এরপর শাওয়ালের রোজা রাখবেন।
মহিলারা রমাদানের (বিশেষ সময়ের) ভাংতি রোজা কাজা করার আগেই এ ছয় রোজা রাখতে পারবে তাদের (বিশেষ সময়ের) ভাংতি রোজা রোজা পরবর্তী রমাদানের আগে রাখলেই হবে। তবে ভাংতি রোজার সাথে এ ছয় রোজা একসাথে করার সুযোগ নেই। ভাংতি রোজা আলাদা রাখতে হবে। আর এ ছয় রোজা আলাদা রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, কেউ যদি শাওয়ালের রোজাসহ যেকোনো নফল রোজা রেখে যদি ভেঙে ফেলেন, তবে তার কাজা আদায় করা ওয়াজিব।
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, নফলসমূহ ফরজের ত্রুটিগুলোর ক্ষতিপূরণ করে। অর্থাৎ জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে রোজাদার কর্তৃক যে ভুলত্রুটি হয়ে থাকে তা নফল রোজা দূর করতে সহায়তা করে। অনুরূপভাবে শাওয়ালের ছয় রোজা রমাদানের ফরজ রোজার অসম্পূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করে এবং তাতে কোনো ত্রুটি থাকলে তাও দূর করে।
তাই প্রত্যেক মু’মিন নর-নারীর উচিত শাওয়াল মাসের ফজিলতপূর্ণ ছয়টি রোজা রেখে পূর্ণ এক বছরের সওয়াব হাসিল করা। কেউ যদি ভাই-বোনসহ অন্যদেরকেও এই রোজা রাখতে উদ্বুদ্ধ করেন, সে ক্ষেত্রে উভয়ই পূর্ণ সওয়াবের ভাগিদার হবেন।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করেন।
-মাওলানা মুফতি আব্দুল
IFM desk