কোরআনুল কারিম মহান আল্লাহর পবিত্র কালাম। এর তেলাওয়াত ও শ্রবণে প্রত্যেক মুমিনের হৃদয় বিগলিত হয়। পবিত্র কোরআনের প্রত্যেকটি আয়াতই মুমিনের জন্য প্রশান্তিময়। মনোযোগসহ শুনলে রহমতের বৃষ্টি ঝড়ে। এরপরও বিশেষ কিছু আয়াত রয়েছে, যা সব দুঃখ-কষ্ট, দুশ্চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা ভুলিয়ে দিতে পারে। কোনো কারণে মন খারাপ থাকলে বা কোন কিছু নিয়ে কষ্টে থাকলে কুরআনের যে আয়াত গুলো পড়ে অনেক স্বস্তি পাওয়া যায়। আসুন সেরকমই কিছু আয়াত দেখে নিই:
‘আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দিবেন।’ [সুরা তালাক: ৭]
‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি।’ [সুরা ইনশিরাহ: ৬]
‘আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতাগুলো আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি।’ [সুরা ইউসুফ: ৮৬]
‘জেনে রেখো, আল্লাহর সাহায্য নিকটে।’ [সুরা বাকারা: ২১৪]
‘আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।’ [সুরা ইউসুফ: ৮৭]
‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের চাইতে বেশি বোঝা চাপিয়ে দেন না।’ [সুরা বাকারা: ২৮৬]
‘এবং অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের।’ [সুরা বাক্বারা: ১৫৫]
‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।’ [সুরা বাকারা: ১৫৩]
‘হে আল্লাহ, আমি তো কখনো আপনাকে ডেকে ব্যর্থ হইনি।’ [সুরা মারইয়াম: ৪]
অর্থ: ‘বলুন, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছো- (তোমরা) আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না; আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সুরা যুমার: ৫৩)
আলহামদুলিল্লাহ্। নিশ্চিতভাবে কুরআনের এই আয়াতগুলো সব দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দিতে সক্ষম। আসুন কুরআনকে আঁকড়ে ধরি, দুনইয়া আখিরাতে সাফল্য নিশ্চিত করি।
উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআন থেকে সবাই হেদায়াত লাভ করতে পারে না। যেমন- অহংকারী, দাম্ভিক, পরকালে অবিশ্বাসী, কোরআন নিয়ে সন্দেহকারী ইত্যাদি। সুতরাং উল্লেখিত আয়াতগুলো তাদের প্রশান্তির কারণ হবে না।
ইরশাদ হয়েছে, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী পাপীর, যে আল্লাহর আয়াতের তেলাওয়াত শোনে, অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে (কুফরের ওপর) অটল থাকে, যেন সে তা শোনেনি। তাকে সংবাদ দাও বেদনাদায়ক শাস্তির।’ (সুরা জাসিয়া: ৭-৮)
IFM desk