“আল্লাহর দৃষ্টিতে এই দিনসমূহ (যিলহজ্জের প্রথম দশ দিন) থেকে মর্যাদাপূর্ণ দিন আর নেই এবং এই দিনগুলোতে করা ইবাদাতের চেয়ে প্রিয় ইবাদাত আর নেই। সুতরাং এই দিনগুলোতে বেশি বেশি করে তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) এবং তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) পড়।” [আহমাদ ৭/২২৪]
সম্ভব হলে ১ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা বিশেষ করে ৯ তারিখে আরাফার দিনের রোজাতো অবশ্যই রাখবো ইনশাআল্লাহ এছাড়াও তিলাওয়াত,জিকির, ইস্তিগফার, দুরূদ শরীফ যেকোনো জিকির, দোয়া-মোনাজাত দান-সদকা,নফল নামাজ অধিক পরিমাণে আদায় করা।
১/ তাওবা:
আল্লাহর প্রিয় পাত্র হতে চান? আপনি চান, আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসুক, যেমন নবী রাসূলদের ভালোবেসেছেন! যেমন সুলাহাদের ভালোবেসেছেন?
তাওবা করুন। আপনার জন্যই আল্লাহর ঘোষণা:
{إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ}
“নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন যারা অধিক পবিত্র তাদের।”
(সুরা বাকারা: আয়াত ২২২)
২/ফরয ও নফল সালাতগুলো গুরুত্বের সাথে আদায় করা
৩/সিয়াম পালন-রোজা রাখা: যিলহজ মাসে রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
হাদিসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিলহাজ্জ মাসের নয় তারিখ পর্যন্ত, আশূরার দিন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন, মাসের প্রথম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম রাখতেন।
৪/হাজ্জ ও ওমরা করা:
৫/আল্লাহর যিকির করা: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এ দশ দিনে [নেক] আমল করার চেয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে অধিক প্রিয় ও মহান আর কোনো আমল নেই। তোমরা এ সময়ে তাহলীল [লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ] তাকবীর [আল্লাহু আকবার] তাহমীদ [আল-হামদুলিল্লাহ] বেশি করে আদায় কর।
৬. তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদ:
এ দিনগুলোতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের মহত্ত্ব ঘোষণার উদ্দেশ্যে তাকবীর পাঠ করা সুন্নত। এ তাকবীর প্রকাশ্যে ও উচ্চস্বরে মসজিদ, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, বাজার সহ সর্বত্র উচ্চ আওয়াজে পাঠ করা হবে। তবে মেয়েরা নিম্ন-স্বরে তাকবীর পাঠ করবে। তাকবীর হল:
اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَاإِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الحَمْدُ
৭/আরাফার দিন রোজা রাখা: হজ পালনকারী ছাড়া অন্যদের জন্য আরাফার দিন রোজা রাখা। আবু কাতাদাহ রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরাফার দিনের রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, ইহা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছররে গুনাহর কাফফারা হবে।
৯/কুরবানী করা
কুরবানী বলা হয় ঈদুল আজহার দিনগুলোতে নির্দিষ্ট প্রকারের গৃহপালিত পশু আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের লক্ষে যবেহ করা।
ইসলামি শরিয়তে এটি ইবাদত হিসেবে সিদ্ধ, যা কোরআন, হাদিস ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত্য দ্বারা প্রমাণিত। কোরআন মজীদে যেমন এসেছে:
﴿ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ٢ ﴾ [الكوثر: ٢]
‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও (পশু) নাহর (কোরবানী) কর।’
১০/ যারা কুরবানী দিবেন তারা যেন চুল নখ না কাটে:
যে ব্যক্তি কোরবানী করতে ইচ্ছুক তার জন্য বিধান হচ্ছে- তিনি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে নিজের চুল, নখ ও চামড়ার কোন অংশ কাটবেন না; যতক্ষণ না তিনি কোরবানী সম্পন্ন করেন।
IFM desk