বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহকে আজ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে। এসময় বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে তাকে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ সময়ে বিশেষভাবে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে কিছু ‘চরমপন্থী উগ্র তৎপরতা’র দিকে। বলা হয়েছে, তারা ঢাকায় ভারতীয় মিশনের আশেপাশে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বিঘ্ন ঘটানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত সম্পূর্ণভাবে ‘চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর’ প্রচারিত মিথ্যা তথ্যকে প্রত্যাখ্যান করে। সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু ঘটনা নিয়ে এমন মিথ্যা তথ্য তৈরি করা হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ ঘটনার বিষয়ে পরিপূর্ণ তদন্ত চালায়নি এবং ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ শেয়ার করেনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনসেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে আরও মজবুত হয়েছে। ভারত সবসময় বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে স্বাধীন, ন্যায্য, সর্বজনীন ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
এতে আরও বলা হয়, আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের মিশন ও কূটনৈতিক পোস্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যা তার কূটনৈতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব
বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহকে নয়া দিল্লিতে তলব করেছে ভারত। এটি করা হয়েছে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনে ‘সাম্প্রতিক হুমকি’ এবং কিছু বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতাদের ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এর আগে সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এনডিটিভি লিখেছে, এই তলবের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর মন্তব্য।
এনডিটিভি লিখেছে, তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, ঢাকা এমন শক্তিকে আশ্রয় দেবে যা দিল্লির বিরুদ্ধে কার্যকর এবং ভারতের ‘সেভেন সিস্টারস’ (উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য) দেশ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ এই উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের ৫৫তম বিজয় দিবস উদযাপনের সময়। এক প্রতিবাদ সভায় তিনি বলেন, ‘সেভেন সিস্টারসকে ভারত থেকে আলাদা করা হবে।’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমরা আশা করি, বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্যও।