বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন




নিজেকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেন জামায়াত নেতা তাহের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৩৭ pm
Taher-আবদুল্লাহ-তাহের Syed Abdullah Muhammad Taher Jamaat-e-Islami সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জামায়াতে ইসলামীর জামায়াত ইসলামী
file pic

সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পরিবার সীমান্ত পাড়ি দেয়া মানুষদের আশ্রয় দিয়েছে এবং পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তাহের বলেন, আজকাল আমাদের খুব বেশি করে রাজাকার-আলবদর বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই যে আমরা এখানে (জামায়াত সদস্যরা) বসে আছি, আমরা তো কেউ রাজাকার ছিলাম না, আলবদরও ছিলাম না। যদি আপনারা সেভাবে মুক্তিযোদ্ধার কথা বলেন, তবে আমিও একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি ছিল বর্ডারের কাছে এবং বাড়িটি বেশ বড় ছিল। যারা ইন্ডিয়াতে মাইগ্রেট করতে যেতেন, তারা প্রথমে আমাদের ওখানে এসে আশ্রয় নিতেন। আমরা তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করতাম। এছাড়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কি না, তা আমরা পাহারা দিতাম। যখন সেনারা দূরে থাকত, তখন আমরা গাইড করে মানুষকে ইন্ডিয়া পার করে দিতাম। সুতরাং এই দাবি করার কারণ অন্য কোনো দলের নেই।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কতিপয় সৎ ও উদ্যোগী মানুষের ফসল ছিল, যা একসময় দক্ষিণ এশিয়ার এক নম্বর বেসরকারি ব্যাংক হয়েছিল। সততা, দক্ষতা ও গুড ম্যানেজমেন্টের কারণেই ইসলামী ব্যাংক সফল হয়েছে। এখন সুদি ব্যাংকগুলোও তাদের উইন্ডো খুলে ইসলামী ব্যাংকিং করছে। এটা কোনো দলের ব্যাংক নয়। যদি বলেন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা ছিল, তবে সেটি ইতিবাচক। কারণ আমরা ভালো ম্যানেজমেন্টে বিশ্বাস করি। অর্থমন্ত্রী একজন বিজ্ঞ মানুষ, আমি আশা করব তিনি রেকর্ড দেখে আগামী সংসদে এই বিভ্রান্তি দূর করবেন।

তাহের বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তারা যে ভঙ্গিতে জামায়াতের বিরুদ্ধে বলত এবং কন্ডেম করত, ঠিক আজকে সরকারি বেঞ্চ থেকে একই আচরণ লক্ষ্য করছি। অথচ আমরা সবাই মিলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। আজ ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি কেন আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সংসদে আমাদের ‘রাজাকার-আলবদর’ বলা হচ্ছে। গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন যা অত্যন্ত অ সংসদীয়। অতীতের কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে গুণগত পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করা দরকার। শুধু মুখে ভালো কথা বললে হবে না, মানসিকতার পরিবর্তন চাই।রাজনৈতিক সংবাদ বুলেটিন

তিনি বলেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকে অনেক সময় ‘এরোগেন্স’ বা ঔদ্ধত্য তৈরি হয়, যা মানুষকে ক্ষুব্ধ করে। উপমহাদেশের ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধী, বেনজির ভুট্টো, শেখ মুজিবুর রহমান এমনকি শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার সময়েও আমরা টু-থার্ড মেজরিটি দেখেছি। কিন্তু এর পরিণতি সবসময় সুখকর হয়নি। ক্ষমতা পেলে ‘যা ইচ্ছা তাই করতে পারি’—এমন মানসিকতা থেকে অঘটন ঘটে। আমি বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করব, অতীত থেকে শিক্ষা নিন।

তাহের বলেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতের সহযোগিতায় বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। তখন আমাদের মন্ত্রিত্ব নিতে বলা হলেও আমরা নেইনি। আমাদের ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আছে। আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশের দিনও আমি ম্যাডামের বাসায় গিয়েছিলাম একটি বিবৃতির অনুরোধ নিয়ে। যদিও পরে সেটি দেওয়া হয়নি, কিন্তু ম্যাডামের জামায়াতের প্রতি সবসময় সিমপ্যাথি ছিল।

তিনি আরও বলেন, অতীতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিবাদ সম্পর্কের হানি ঘটিয়েছে। ৯৬ সালে আমরা আলাদা নির্বাচন করেছিলাম, যার পরিণতি সবার জানা। বর্তমানেও কিছু ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যাতে সুস্থ ধারার রাজনীতি বজায় থাকে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD