বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন




আইসিবির ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী

‘ওয়ালস্ট্রিটের ১৫ বড় বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী’

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:২৩ pm
Khosru Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিAmir Khasru Mahmud Chowdhury আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী Amir Khasru Mahmud Chowdhury আমির খসরু
file pic

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ওয়ালস্ট্রিটের (যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার) অনেক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার বিষয়ে আগ্রহী। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যাদের সম্মিলিত সম্পদ ১৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এদের অনেকেই আমাদের বাজারে বিনিয়োগ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সব কোম্পানি হয়ত বিনিয়োগ করবে না। তবে পর্যায়ক্রমে অনেকই আসবে। আর এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএসইসি বেশ ভাল কাজ করছে। তারা অনেক ডিরেগুলেশন করেছে, আরও করতে হবে। কাগজপত্রের ব্যবহার কমিয়ে সব কিছু অনলাইনভিত্তিক করতে হবে। আইসিবিকেও ডিজিটাইজেশনের দিকে আগাতে হবে। নিজেদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।বাংলাদেশ অর্থনীতি

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর পূর্বানী হোটেলে রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেছেন তিনি।

আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থসচিব মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এখন অনেক বেশি রিটেল-বেসড হয়ে গেছে। অথচ সারা বিশ্বে ক্যাপিটাল মার্কেট মূলত ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টমেন্টনির্ভর, রিটেল বিনিয়োগের অংশ তুলনামূলকভাবে খুবই ছোট। বাংলাদেশে চিত্রটা পুরোপুরি উল্টো। তাই রিটেল-বেসড বাজার থেকে একটি ইনস্টিটিউশনাল-বেসড মার্কেট তৈরি করার ক্ষেত্রে আইসিবির জন্য বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইসিবির একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নানা চড়াই-উৎড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এসেছে। আশা করি, বিদ্যমান কিছু সংকট উত্তরণ করে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। তবে এর জন্য তাদেরকে প্রতিযোগিতায় সক্ষম, বর্তমান সরকার সবার জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। তাই আইসিবিকে কর মওকুফ করে বা অন্য কোনো বড় সুবিধা দিয়ে নয়, বরং দক্ষতা, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়িয়ে টিকে থাকতে হবে।

আইসিবির মূলধন পুনর্গঠন ও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না, দেওয়া হবে না। এটি সরকারের একটি সচেতন সিদ্ধান্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমার ওপর অনেক চাপ আছে। আপনারা জানেন, ১৭ বছর পর একটি দল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন আমার ওপর অনেক চাপ এসেছে। অমুককে বোর্ডের সদস্য করতে হবে, চেয়ারম্যান করতে হবে, এটা করতে হবে, সেটা করতে হবে। কিন্তু নাথিং ডুয়িং। আমরা এখানে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ দেব না।’

আইসিবির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার পর আইসিবি অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মূল ধারণা ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মার্কেট-বেসড, অর্থাৎ মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে নেওয়া এবং পুঁজিবাজারকে সেই অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা।’

তিনি বলেন, ‘আইসিবির অপারেশনও সেভাবেই পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় আইসিবির মাধ্যমে বিনিয়োগে যাবে, সেই বিনিয়োগ অর্থনীতিতে অবদান রাখবে—এটাই ছিল মূল ধারণা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এত বছর পর, নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইসিবিকে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে, আমাদের বেসরকারি খাত থেকে যারা এসেছেন, তাদের অনেকে বলেছেন, তারা আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে চান। আইসিবিকেও সেই জায়গায় যেতে হবে।’

বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, একসময় আইসিবির তেমন কোনো প্রতিযোগী ছিল না। কিন্তু এখন অনেক প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে। প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এমন অবস্থায় টিকে থাকতে তাদেরকে আরও পেশাদার হতে হবে। বিশেষ করে দু’টি বিষয়ে তাদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত: পোর্টফোলিও রিব্যালেন্সিং করা খুবই জরুরি। পোর্টফোলিওতে অনেক শেয়ার আছে, যেগুলোর দাম অনেক কমে গেছে এবং আপাপত বাড়ার সম্ভাবনা কম। সেগুলো বিক্রি করে সম্ভাবনাময় শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে, নইলে অনেক সুযোগ হয়তো হাতছাড়া হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত: প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির স্বার্থে এমন একটি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা ভাল। সরকার হয়তো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তবে মূল কাজটা আইসিবিকেই করতে হবে। শুধু অন্যের দিকে না তাকিয়েনিজে যতটুকু সম্ভব ততটুকু আগে করতে হবে।

অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, দেশের পুঁজিবাজার, শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে আইসিবির অনেক ভূমিকা আছে। পুঁজিবাজারে অনেক পণ্য ও সেবা আইসিবির হাত ধরে চালু হয়েছে। মাঝখানে কয়েক বছর কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও অনিয়মের কারণে এক সময়ের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানটি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি যতটাকা পরিচালন মুনাফা করে, তার দ্বিগুন সুদ গুনতে হয়। তাই প্রতি বছর নিট লোকসান গুণতে হবে। এ অবস্থার উত্তরণে মূলধন পুনর্গঠন ও বিশেষ তহবিল জরুরী।

তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির স্বার্থে আইসিবির মতো প্রতিষ্ঠানের বেঁচে থাকা প্রয়োজন। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এ বাস্তবতায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD