সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন




বরিশালের গণসমাবেশে মির্জা ফখরুল

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২২ ৭:০৭ am
রাজনীতি Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিএনপি গণসমাবেশ
file pic

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষ বর্তমান সরকারের কবল থেকে মুক্তি চায়। আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার—শেখ হাসিনাকে সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারে অধীনে। বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে গতকাল বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার এতদিন উন্নয়নের বুলি শুনিয়েছে। উন্নয়নের নামে সব টাকা পাচার করে বিদেশে নিয়ে গিয়েছে। বিদ্যুৎ নিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়েছে। কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করেছে। আর সরকার এখন ডলার সংকট, দুর্ভিক্ষের কথা বলছে। যখন হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করে পাচার করা হয়েছিল, তখন এসব মনে ছিল না? হাতিরঝিলে বড় আকারে তারা (আওয়ামী লীগ) অনুষ্ঠান করল যে বিদ্যুতে নাকি দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন সেই বিদ্যুৎ কোথায়? এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যে তারা চুরি করেনি। একটা জায়গা দেখান, যেখানে এ সরকার দুর্নীতি করেনি। বিনা পয়সায় সার দেয়ার কথা বলেছিল কিন্তু আমাদের সময়ের থেকে তিন গুণ বেশি দামে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে দেশে শুধু উন্নয়ন হয় আর আওয়ামী লীগের সময় হয় দুর্ভিক্ষ। বিএনপি যতদিন ক্ষমতায় ছিল ততদিন দেশে উন্নয়ন হয়েছে। এ বরিশালেও অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বরিশালে বিভাগ দিয়েছেন খালেদা জিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ আজ বর্গির রূপ নিয়েছে। ভোটের অধিকার কেবল একবার নয়, যখনই এরা ক্ষমতায় আসে তখনই ভোট চুরি করে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। এখন আবার ভোট চুরির ফায়দা আঁটছে। নতুন বুদ্ধি এঁটে নতুন কমিশন দিয়ে আবার কৌশলে ভোট চুরির চিন্তা করছে। কিন্তু তারা সন্ত্রাস করবে, চুরি করবে এটা তো হয় না। এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই স্বপ্ন দেখেছিল একটি সুন্দর দেশ গড়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগ একে একে আমাদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দিয়েছে। ১৪-১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ একই স্বপ্ন দেখছে—তারা দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। কিন্তু গণতন্ত্রের একটা খোলস বা মোড়ক রাখতে চায়। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মামলা ও হামলা হয়েছে। আর এটা হচ্ছে তাদের একটা বড় অস্ত্র। তারা যাদের ওপর হামলা করবে আবার তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করবে। আজকে আলেম-ওলামারাও রেহাই পাচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে, আটক করে জেলে রাখা হচ্ছে। এ দেশে কেউ নিরাপদ নয়।

বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে সমাবেশ মঞ্চে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত চেয়ার ফাঁকা রাখা হয়। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মইন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন (বীর বিক্রম), এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, জয়নাল আবেদীন। আরো বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। অসহনীয় দ্রব্যমূল্য, লাগাতার লোডশেডিং, দুর্নীতি-দুঃশাসন, লুটপাট, হামলা-মামলা, ভোটাধিকারসহ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন মেবুল ও জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মুকুল।

এদিকে বিএনপির গণসমাবেশে যোগ দিতে ইশরাক হোসেন ৫০-৬০টি গাড়ির বহর নিয়ে সকালে বরিশালে যাচ্ছিলেন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। বহরে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা পরে জড়ো হয়ে স্থানীয় মাহিলাড়া মডার্ন ক্লাবে ভাংচুর ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। এর মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD