চীনের দাবি, দেশটির বিজ্ঞানীরা সফলভাবে তিনটি ‘সুপার কাউ’ ক্লোন করতে সক্ষম হয়েছে। গাভীগুলো অস্বাভাবিক হারে দুধ উৎপাদন করতে পারবে। খবর সিএনএন।
রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, আমদানি করা জাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই উদ্যোগ ‘চীনের দুগ্ধ শিল্পের জন্য একটি অগ্রগতি’ হিসেবে প্রশংসা পাচ্ছে।
বাছুর তিনটি প্রজনন নিয়ে কাজ করেছেন নর্থওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফরেস্ট্রি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা। গত ২৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া চন্দ্র নববর্ষের আগের সপ্তাহে নিংজিয়া অঞ্চলে সুপার কাউগুলোর জন্ম।
নেদারল্যান্ডের হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের উচ্চ উৎপাদনশীল গরু থেকে এগুলো ক্লোন করা হয়েছিল। গাভীগুলো প্রতি বছর ১৮ টন দুধ ও জীবদ্দশায় ১০০ টন দুধ উৎপাদন করতে সক্ষম।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার অনুসারে, এই পরিমাণ ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে উত্পাদিত গড় গাভীর দুধের প্রায় এক দশমিক সাত গুণ বেশি।
ক্লোন করা বাছুরগুলোর প্রথমটি রাষ্ট্রীয় খামারে ৩০ ডিসেম্বর সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে জন্ম নেয়। কারণ স্তন্যপায়ীটির আকার ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বড়, প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ কিলোগ্রাম।
টেকনোলজি ডেইলি অনুসারে, বিজ্ঞানীরা উচ্চ উত্পাদনশীল গরুর কানের কোষ থেকে ১২০টি ক্লোন করা ভ্রূণ তৈরি করেছেন এবং পরে তাদের গাভীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।
চীনের দুগ্ধজাত গরুর ৭০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
চীনে প্রতি ১০ হাজার গাভীর মধ্যে মাত্র পাঁচটি তাদের জীবদ্দশায় ১০০ টন দুধ উত্পাদন করতে পারে। কিন্তু এদের অনেকগুলোকে জীবনের শেষ অবধি শনাক্ত করা যায় না। যার ফলে বংশবৃদ্ধি করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্লোন সেই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে।