দখলদার ইসরাইলের বর্বর হামলায় মানবেতর জীবন কাটানো ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভেনিয়ার জাতীয় জাদুঘর। মধ্যযুগের অন্যতম মূল্যবান ধর্মীয় পাণ্ডুলিপি ‘সারায়েভো হাগাদা’ জন সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের কাছে বিক্রি করা টিকিটের অর্থ দান করা হবে গাজায়।
জাদুঘরটির এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইসরাইল ও ইহুদিদের একাংশ। ‘সারায়েভো হাগাদা’ হিব্রু ভাষায় লেখা ইহুদিদের একটি বই; যা মূলত স্পেনের কোনো এক জায়গায় লেখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেটি বসনিয়ার সারায়েভোর ইহুদিদের কাছে আসে।
বিশেষভাবে নকশা করা কাচের কেবিনেটে রাখা হাগাদা বহুদিন ধরেই সারায়েভোর বৈচিত্র্যের প্রতীক। মুসলিম অধ্যুষিত শহর সারায়েভোতে বর্তমানে প্রায় এক হাজারেরও কম ইহুদি বাস করে। ১৩৫০ সালের দিকে রচিত পাণ্ডুলিপিটি সূক্ষ্ম চিত্রকর্মে অলঙ্কৃত। এটি সম্ভবত বার্সেলোনার কাছাকাছি রচিত হয়েছিল। ১৪৯২ সালে স্পেন থেকে বিতাড়িত ইহুদিরা এটি সারায়েভোতে নিয়ে আসে।
এটি নাৎসি দখলদারিত্বের সময় টিকে ছিল। ১৯৯০-এর দশকের বসনিয়ার যুদ্ধে তীব্র গোলাবর্ষণের মধ্যেও নিরাপদে রাখা হয়। বসনিয়ান ইহুদি সম্প্রদায়ের সভাপতি জাকব ফিনসি জাদুঘরের এমন পদক্ষেপকে তাই ‘অপমানজনক’ বলে জানিয়েছেন।
১৩৫০ সালের দিকে রচিত পাণ্ডুলিপিটি সূক্ষ্ম চিত্রকর্মে অলঙ্কৃত। এটি সম্ভবত বার্সেলোনার কাছাকাছি রচিত হয়েছিল। ১৪৯২ সালে স্পেন থেকে বিতাড়িত ইহুদিরা এটি সারায়েভোতে নিয়ে আসে।
দর্শনার্থীদের দেখানো এবং এর থেকে আসা টাকা গাজায় যাওয়ার বিষয়কে ‘অদ্ভুত’ বলে ফিনসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘এটি সারায়েভোর সুনাম এবং সারায়েভো হাগাদার মর্যাদা নষ্ট করছে। যে বই বহু বছর ধরে সারায়েভোর বহু-জাতিগত চরিত্র ও আমাদের সহাবস্থানের সাক্ষ্য বহন করছে।
পদক্ষেপটির তীব্র সমালোচনা করেছে ইহুদি সংগঠনগুলোও। বিদেশ থেকে কেউ কেউ জাদুঘরকে ইহুদিবিদ্বেষী বলেও অভিযোগ করেছে। তবে জাদুঘরের পরিচালক মিরসাদ সিজারিচ (৫৫) সিদ্ধান্তের পক্ষে দাঁড়ান এবং জানান, তিনি বিশ্বজুড়ে অনেক ইহুদির কাছ থেকে সমর্থনের বার্তা পেয়েছেন।
সিজারিচ এএফপিকে বলেন, ‘আমরা কি এক পক্ষকে বেছে নিয়েছি? হ্যাঁ, আমরা এক পক্ষ বেছে নিয়েছি।’
জাদুঘরের অনুদানে হাগাদা নিয়ে প্রকাশিত একটি বইয়ের বিক্রির অর্থও গাজায় যাবে। সিজারিচ বলেছেন, এ পদক্ষেপ ‘কোনোভাবেই ইহুদিদের বিরুদ্ধে নয়’। বরং গাজায় যা ঘটছে তার বিরোধিতা করার একটি বার্তা। নিরপেক্ষতার ভান করা মানে মন্দের পাশে দাঁড়ানো। আমার মতে, এটি খাঁটি মন্দ এবং এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জরুরি।’
চিত্রিত ও সুসংরক্ষিত হাগাদার পাণ্ডুলিপির পাতায় পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি এবং মিশর থেকে হিব্রুদের প্রস্থান বর্ণনা করা হয়েছে।