বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন




যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিতের আওতায় কারা পড়বে না, জানালো স্টেট ডিপার্টমেন্ট

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ৯:২২ pm
White House official residence workplace president United States Pennsylvania Avenue Washington হোয়াইট হাউস সাদা বাড়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক বাসভবন ওয়াশিংটন ডিসি পেনসিলভানিয়া ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা North America United States United State usa
file pic

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসাপ্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কারা এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছেন—সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীরা যেন আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হন এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর বোঝা না হন; সে লক্ষ্যেই ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় উচ্চঝুঁকির দেশগুলোর ভিসা কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি থেকে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

কারা এই ভিসা স্থগিতের আওতায় পড়বেন না

স্টেট ডিপার্টমেন্টের দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, এর মধ্যে কর্মসংস্থানভিত্তিক ও পারিবারিক অভিবাসী ভিসা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে অভিবাসনবহির্ভূত ভিসা— যেমন পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়িক ভিসা—এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বে না।

এছাড়াও আর কিছু ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। যেসব আবেদনকারীর দুটি দেশের নাগরিকত্ব (দ্বৈত নাগরিক) রয়েছে এবং যাঁরা ভিসার জন্য আবেদন করছেন এমন একটি দেশের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে, যে দেশটি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নেই—তাঁরা এই ভিসা স্থগিতের আওতায় পড়বেন না।

যাঁদের ইতিমধ্যে বৈধ ভিসা আছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না। এই নির্দেশিকা কেবল নতুন করে ভিসা ইস্যু করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যাঁদের হাতে আগে থেকে বৈধ ভিসা রয়েছে, তাঁদের ভিসা বহাল থাকবে।

এই স্থগিতাদেশ শুধু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ট্যুরিস্ট, বিজনেস, স্টুডেন্ট বা অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে নয়। অর্থাৎ, বি-১/বি-২ (ভ্রমণ), এফ-১-সহ (শিক্ষার্থী) অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

যাঁদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আবেদনকারীরা ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত ইন্টারভিউয়ে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই স্থগিতাদেশ চলাকালে নতুন কোনো ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (যেসব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে) ইস্যু করা হবে না।

কেন এই সিদ্ধান্ত

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে চায়, যাঁরা ভবিষ্যতে সরকারি ভাতা, কল্যাণমূলক কর্মসূচি, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন। এ কারণেই স্বাস্থ্য, বয়স, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান ও অতীত কল্যাণ সুবিধা গ্রহণের ইতিহাস—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মার্কিন সরকার অভিবাসীদের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয়। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসে। এরপরই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেয় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এর লক্ষ্য, আবেদনকারীরা যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD