বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন




আর্থিক সংকটে পঙ্গু হতে চলেছে জাতিসংঘ, সতর্কবার্তা গুতেরেসের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ ৯:৪৯ am
United Nations Nation UN ইউএন জাতিসংঘ পরিষদ secretary general United Nations UN António Manuel de Oliveira Guterres জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও ম্যানুয়েল দে অলিভেরা গুতেরেস
file pic

মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে জাতিসংঘ, যা সংস্থাটিকে চূড়ান্ত ধসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করলে এবং প্রচলিত আর্থিক নিয়মে আমূল পরিবর্তন না আনলে বিশ্ব সংস্থাটি অচিরেই অচল হয়ে পড়বে।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তহবিলের অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এখনই বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় আর কোনো উপায় থাকবে না। তিনি জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো কার্যক্রম সচল রাখার মতো নগদ অর্থ বা তারল্য এখন সংস্থার হাতে নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল শেষে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার বকেয়া জমেছে।

এই আর্থিক সংকটের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করা হলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং বিকল্প বৈশ্বিক উদ্যোগ চালুর বিষয়টি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। মানবাধিকার সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বড় রাষ্ট্রগুলোর এমন অনীহা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও ঋণের সক্ষমতা বিবেচনা করে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন ২০ শতাংশ অর্থায়ন করে থাকে। মহাসচিব চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন, জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের নগদ অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে।

তিনি একটি প্রাচীন নিয়মের সমালোচনা করে বলেন, প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা বর্তমানে অবাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে পর্যাপ্ত অর্থই নেই, সেখানে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সংস্থাকে এক অদ্ভুত চক্রে আটকে ফেলেছে। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালের চাঁদা পূর্ণ পরিশোধ করেছে, যা বিশ্ব সংস্থার ভবিষ্যৎকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

সূত্র: আলজাজিরা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD