মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন




মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে একযোগে ইরানের ৭৬ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ৮:৪৮ pm
missaile Missile iran হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র missaile ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
file pic

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সোমবার (২৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বিবিসি

আইআরজিসি বিবৃতিতে বলেছে, শত্রুদের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ধারাবাহিকতায় আল-ধাফরা, ভিক্টোরিয়া, পঞ্চম নৌবহর এবং কিং সুলতান নামক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ‘কিয়াম’ (তরল জ্বালানি) এবং ‘জুলফিকার’ (সলিড জ্বালানি) ব্যবহার করে কার্যকরভাবে হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু ছিল। আশকেলন, তেল আবিব, হাইফা ও গুশ দান শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর স্থাপনাগুলোতে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘খায়বার-শেকান’ ও ‘কিয়াম’ তরল জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে ‘ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। খবর আল জাজিরা।

সোমবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে বলেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা পুরোপুরি সমাধানের লক্ষ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলমান আলোচনা সফল হওয়ার ওপর নির্ভর করে আপাতত সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।

এর আগে শনিবার ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় সব জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকিও দেন তিনি।

প্রতিউত্তরে ইরান হুঁশিয়ারি দেয়, তারা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে পারে; যা দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। পাশাপাশি তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলারও হুমকি দেয়।

সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনী আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা এমন সব বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করবে, যেগুলো থেকে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এ ছাড়া মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও টার্গেট করা হবে বলে সতর্ক করে তারা।

অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল জানায়, দেশের দক্ষিণ উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে কোনো হামলা হলে তারা সমুদ্রপথে মাইন পেতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।

এছাড়া ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলা স্থগিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেল ১৩ ডলার কমে ৮৫.২৮ ডলারে নেমেছে, যা ১৩.৫ শতাংশেরও বেশি পতনের সমতুল্য। খবর রয়টার্স

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ বাজারে অস্থিরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগে ইরানের হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় ব্যাহত হয়েছিল। এর ফলে যুদ্ধের শুরুতে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল।

বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রণালিটি প্রায় বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের হামলা স্থগিত ঘোষণার পর এই চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD