বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন




তদন্ত শুরু করেছে দুদক

অনিয়ম-প্রতারণা আর অর্থ তসরুপের অভিযোগ অ্যাড. দেলোয়ারের বিরুদ্ধে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৩২ am

একাধিক সামাজিক-পেশাজীবী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এবার উছেঠে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। এর আগে অর্থ তসরুপের দায়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সামাজিক-পেশাজীবী সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির সেক্রেটারি থেকে ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় নেতা, নানা পরিচয়ে পরিচিত অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু সেই পরিচয়ের আড়ালে তার বিরুদ্ধে জমেছে অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ। এরই মধ্যে একটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।

অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে অর্থ তসরুপের কারণে দেলোয়ার হোসেন স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হন। পরে তিনি ঢাকায় এসে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন।

এ ধারাবাহিকতায় সাবেক সিনিয়র জেলা জজ মাসদার হোসেনের চেম্বারের মাধ্যমে নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি ভ্যাট আপিল মামলার শুনানি ও পরিচালনার দায়িত্ব পান তিনি। মামলা চলাকালে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা, আইনজীবীর ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনকে মোট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তিনি নিজের নামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পল্টন শাখার দুটি হিসাবে অর্থ জমা ও এফডিআর করেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি হিসাবে ৩৫ লাখ টাকা জমা এবং ১০ জানুয়ারি আরেকটি হিসাবে ৪০ লাখ টাকার এফডিআর করা হয়।
এ ঘটনায় নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৎকালীন ব্যবস্থাপক মো. আশরাফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আরও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। মো. মুনকির খান অভিযোগ করেন, তার ভাই মোশারফ হোসেনের কাছে পাওনাদার আলমগীর হোসাইনের কথা বলে দেলোয়ার হোসেন ৯ লাখ টাকা নেন। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে অর্থ পরিশোধের পর আপোষের মাধ্যমে তা প্রত্যাহার করা হয়।

অন্যদিকে কেরানীগঞ্জে জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্ধেক টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা এখনো না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জমির বিক্রেতা ফারুক হোসাইন। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন মানুষকে হয়রানির শিকার করছেন।

সাবেক জেলা জজ ও আইনজীবী মাসদার হোসেন বলেন, আমার এক মক্কেলের মামলা চলাকালে আমি আমার চেম্বার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডভোকেট ফাতহুল বারীর পরিচিত অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা, আইনজীবী ফি ও আনুষঙ্গিক আরও খরচ বাবদ আশি লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে আরও সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকাসহ মোট সাতাশি লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তার নিজ নামীয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, পল্টন শাখায় পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা জমা এবং একই ব্যাংকে চল্লিশ লাখ টাকা এফডিআর করেন, যা একটি সুস্পষ্ট তসরুপের শামিল। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৎকালীন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম বিগত ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। যা তদন্তাধীন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে চাকুরী ছেড়ে দিয়েছি। আর নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি ভ্যাট আপিল মামলার ফির টাকা নিয়েছি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD