শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন




যোগাযোগ

মেট্রোরেল সম্প্রসারণে মনোযোগ, এডিপিতে বড় বরাদ্দ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬ ১২:৫৩ pm
Dhaka metro rail formal test run Dhaka Metro Rail ঢাকা মেট্রোরেল মেট্রোরেলের
file pic

উত্তরা থেকে মতিঝিল– দেশের প্রথম মেট্রোরেল রাজধানীর গণপরিবহন কাঠামো পাল্টে দিয়েছে। নগরবাসীর কাছে দারুণ জনপ্রিয় মেট্রোরেল সেবা। ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ নামে প্রকল্পটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সরকার দ্রুত এই কাজ শেষ করতে চায়। এ জন্য আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের এডিপি সম্প্রতি অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। নতুন এডিপিতে এমআরটি লাইন-৬-এ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে যা ছিল এক হাজার ২৩ কোটি টাকা। বাড়তি বরাদ্দ দিয়ে আগামী অর্থবছরে কমলাপুর অংশ পর্যন্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ ও পরিবহন খাত নিয়ে যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। শুধু রাজধানী নয়, অন্যান্য মহানগরেও মেট্রোরেল ও বৃত্তাকার কমিউটার লাইন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর এমআরটি-৬-এর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ উদ্বোধন করা হয়। ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশে চলাচল শুরু হয়। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ প্রকল্পে ৭৫৫ কোটি টাকা ব্যয় কমানো হয়। এতে প্রকল্পের সম্ভাব্য মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। গত বছরের জুন পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে ২৫ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। জাইকা এ প্রকল্পে কারিগরি ও ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। জাইকার ঋণের পরিমাণ ২০ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।

প্রথম পাতাল রেলে বরাদ্দ বেড়েছে ৯ গুণ
এমআরটি-১ দেশের প্রথম পাতাল রেল প্রকল্প। আগামী অর্থবছরে এই প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাত হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৯ গুণ। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বরাদ্দ ছিল মাত্র ৮০১ কোটি টাকা।

মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। জানতে চাইল ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাওগাতুল আলম বুধবার বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মেট্রোরেলের প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা। বাড়তি বরাদ্দ দিয়ে আগামী অর্থবছর এমআরটি লাইন-১-এর অবশিষ্ট আটটি আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের জায়গার পরিষেবা স্থানান্তর, বিমানবন্দর সড়ক ও প্রগতি সরণি অংশে আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি ও পূর্বাচল রুটে ভায়াডাক্টের পাইলিং কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। বিমানবন্দর পর্যন্ত ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০৩০ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। গত অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পে খরচের পরিমাণ তিন হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা।

প্রতিদিন আট লাখ যাত্রী যাতায়াত করবে মেট্রোরেল-১ প্রকল্পের বিভিন্ন স্টেশনে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি জাইকার কারিগরি ও ঋণ সহায়তায় নির্মিত হওয়ার কথা। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে জাইকার ঋণ দেওয়ার কথা ৪০ হাজার কোটি টাকা।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী মেট্রোরেলে বড় বরাদ্দ ভালো পরিকল্পনা। কারণ, প্রকল্পের বিলম্ব হলে পরে নির্মাণকালে ব্যয় বেড়ে যায়। বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে সেবা সৃষ্টি– ঠিকই আছে। তবে প্রকল্পের ব্যয় সাশ্রয়ী করা, গুণমানসম্পন্ন ব্যয় ও প্রকল্পের গোটা প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, অতীতে প্রকল্প নিয়ে অনেক অনিয়ম, ব্যত্যয় ও বিচ্যুতি দেখা গেছে।

এমআরটি লাইন-৫-এর বরাদ্দ বেড়েছে ৫ গুণ
হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত রুট নিয়ে এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পটি ঢাকার পশ্চিম অংশের সঙ্গে পূর্ব অংশের পরিবহন যোগাযোগ সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে প্রকল্পটির বরাদ্দ প্রায় পাঁচ গুণ করে তিন হাজার ৯১০ কোটি টাকা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে যা ছিল মাত্র ৮৬৩ কোটি টাকা।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটে আগামী অর্থবছরে হেমায়েতপুরে অবস্থিত ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র চূড়ান্ত করা ও প্রকল্পের জন্য সংশোধিত ডিপিপি তৈরি এবং তা অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD