উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪২ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সিরাজগঞ্জের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর প্রবাহিত হতে শুরু করেছে যমুনার পানি বলে জানান জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার সরকার।
তিনি বলেন, একই সময়ে কাজীপুর উপজেলার মেঘাই পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত কয়েকদিন যাবত যমুনার পানি বাড়তে শুরু করেছে। আরও দুই-তিনদিন এই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই সব এলাকার বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। যে সব প্রতিষ্ঠান খোলা আছে, সেগুলোতে যাতায়াত করতে হচ্ছে নৌকা বা ভেলায়। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় এবং বাড়িতে পানি উঠায় এসব এলাকার অসংখ্য মানুষজন দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদীতীরে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন শুরু করেছে।
চৌহালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হেকমত আলী বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলার দুই হাজার ১৯০টি পরিবারের অন্তত সাড়ে আট হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ সব পরিবারের তালিকা তৈরি করে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে সিরাজগঞ্জ সদর ও কাজীপুর উপজেলার ২০৩ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে রোপা আমন ও আউশের ক্ষেত, বীজতলা, সবজি, কলার বাগান ও আখসহ বিভিন্ন আবাদি জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।এ কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার তালিকা প্রণয়ন না হওয়ায় এসব উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।