বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন




যেসব নেকির কাজে আল্লাহ গুনাহ মোচন করেন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ৭:৪২ pm
সিজদা namaz namaj salat নামাজ সালাত Baitul Mukarram National Mosque-বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ-Outlookbangla.com-আউটলুকবাংলা ডটকম গুলশানে মুহিতের প্রথম জানাজা সম্পন্ন দোয়া দু'আ doa dua দোয়া দুআ masjid masazid maszid islam azan dua doa ajan আজান দোয়া আযান মাসজিদ মাসাজিদ ইসলাম
file pic

আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে বান্দার একটি বিশাল অনুগ্রহ যে, তিনি বান্দার গুনাহ মোচনের বিভিন্ন ব্যবস্থা রেখেছেন। গুনাহ মোচনের ব্যবস্থা না থাকলে নিশ্চিতভাবে আমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে হতো। নিশ্চয় মহান আল্লাহ পরম দয়ালু এবং ক্ষমাশীল।

যে সকল মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা বান্দার গুনাহ মোচন করে থাকেন সেগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল, আল্লাহর নিকট খাঁটি অন্তরে তওবা-ইস্তিগফার করা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা বলেন:

وَ الَّذِیْنَ اِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً اَوْ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوْبِهِمْ وَ مَنْ یَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللهُ، وَ لَمْ یُصِرُّوْا عَلٰی مَا فَعَلُوْا وَ هُمْ یَعْلَمُوْنَ.

“এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনো কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনোভাবে) নিজেদের প্রতি জুলম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া কেই বা আছে, যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না।“
(সূরা আল-ই ইমরান: ১৩৫)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

إِنّ اللهَ عَزّ وَجَلّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النّهَارِ، وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللّيْلِ، حَتّى تَطْلُعَ الشّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا

“আল্লাহ তা’আলা রাতে তাঁর (ক্ষমার) হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনে যারা পাপ করেছে তারা তওবা করতে পারে। আর দিনে তাঁর (ক্ষমার) হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতে যারা পাপ করেছে তারা তওবা করতে পারে। এভাবে (তাঁর অবারিত ক্ষমা) চলতে থাকবে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া পর্যন্ত“। (সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৭৫৯)

এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা নেকির কাজের মাধ্যমে আমাদের গুনাহগুলো মোচন করে দেন। যেমন:

আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ

“নিশ্চয় নেকির কাজ গুনাহ সমূহ দূর করে দেয়।”
(সূরা হুদ: ১১৪)

সাহাবী আবু যর থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

اتّقِ الله حَيْثُمَا كُنْتَ، وَأَتْبِعِ السّيِّئَةَ الحَسَنَةَ تَمْحُهَا

“হে আবু যর! যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় কর এবং কোনো পাপ হয়ে গেলেই নেক আমল কর; তা তোমার পাপ মিটিয়ে দিবে।“ (জামে তিরমিযী, হাদিস ১৯৮৭, সহীহ তারগীব, হা/২০৪২, সনদ হাসান লি গাইরিহী)

যে আমলগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার গুনাহ মোচন করেন: যে সকল নেকির কাজের মাধ্যমে গুনাহ মোচন হওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে হাদিস বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

১. ওযু করা

২. সলাতের জন্য মসজিদে গমন করা

৩. পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করা

৪. জুমার সলাত আদায় করা

৫. সলাতে আমীন বলা

৬. রুকু থেকে উঠে: ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ বলা

৭. রমাযান মাসের রোযা

৮. রমযানে কিয়ামুল লাইল (তারাবীহ এর সলাত)

৯. লাইলাতুল কদরে/শবে কদরে কিয়ামুল লাইল বা নফল ইবাদত-বন্দেগি করা

১০. ইয়াওমে আরাফা বা আরাফা দিবসের রোযা

১১. আশুরার রোযা

১২. হাজ্ব সম্পাদন করা

১৩. উমরা সম্পন্ন করা

১৪. মুসাফাহা করা

১৫. খাওয়ার পর দু’আ পাঠ

১৬. কাপড় পরিধানের দু’আ পাঠ করা

নিম্নে উপরোক্ত বিষয়গুলো প্রসঙ্গে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলিল পেশ করা হল:

১. ওযু করা:
আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِذَا تَوَضّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ – أَوِ الْمُؤْمِنُ – فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ – أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ -، فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ -، فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلَاهُ مَعَ الْمَاءِ – أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ – حَتّى يَخْرُجَ نَقِيّا مِنَ الذّنُوبِ.

“যখন মুসলিম ওযু করে- চেহারা ধোওয়ার সময় পানির ফোঁটার সাথে চোখের গুনাহগুলো ধুয়ে যায় (বর্ণনাকারী বলেন, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পানির শেষ ফোঁটার সাথে ধুয়ে যায়)। যখন হাত ধোয় তো হাতের গুনাহগুলো ধুয়ে যায়।… যখন পা ধোয় তো পানির ফোঁটার সাথে পায়ের দ্বারা কৃত গুনাহগুলো ধুয়ে যায়।… এভাবে বান্দা গুনাহ থেকে একেবারে পাক-সাফ হয়ে যায়।“
(সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৪৪)

২. সলাতের জন্য মাসজিদে গমন করা:

আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
صَلاَةُ الرّجُلِ فِي الجَمَاعَةِ تُضَعّفُ عَلَى صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ، وَفِي سُوقِهِ، خَمْسًا وَعِشْرِينَ ضِعْفًا، وَذَلِكَ أَنَّهُ: إِذَا تَوَضَّأَ، فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ، ثُمّ خَرَجَ إِلَى المَسْجِدِ، لاَ يُخْرِجُهُ إِلّا الصّلاَةُ، لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً، إِلّا رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ، وَحُطّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ.

“জামাতের সলাত ঘরের বা বাজারের সলাত অপেক্ষা পঁচিশ গুণ বেশি সওয়াব রাখে। কারণ, বান্দা যখন উত্তমরূপে ওযু করে এবং একমাত্র সলাতের উদ্দেশ্যেই ঘর থেকে বের হয় তো প্রতিটি কদমের বিনিময়ে আল্লাহ তার একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি করে গুনাহ মিটিয়ে দেন।“
(সহীহ বুখারী, হাদিস ৬৪৭)

৩. পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায়:

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنّ نَهْرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرّاتٍ، هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ؟ قَالُوا: لَا يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ، قَالَ: فَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، يَمْحُو اللهُ بِهِنّ الْخَطَايَا.

“(তোমাদের কী মনে হয়?) কারো বাড়ির পাশে যদি নদী থাকে আর সে তাতে প্রতিদিন পাঁচ বার গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো ময়লা থাকবে?”

সাহাবায়ে কেরাম উত্তরে বললেন, “না, তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না।“

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন:
فَذلِكَ مَثَلُ الصّلَوَاتِ الْخَمْسِ، يَمْحُو اللهُ بِهِنّ الْخَطَايَا

“পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের দৃষ্টান্তও এরূপ। এর মাধ্যমে আল্লাহ (বান্দার) পাপসমূহ মিটিয়ে দেন।“ (সহীহ মুসলিম, হাদিস ৬৬৭; সহীহ বুখারী, হাদিস ৫২৮)

এছাড়া আরও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
الصّلَوَاتُ الْخَمْسُ، وَالْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ، مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ

পাঁচ ওয়াক্ত সলাত, এক জুমা থেকে আরেক জুমা, এক রমযান থেকে আরেক রমযান এর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহকে মিটিয়ে দেয়; যদি ওই ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে (ওই ব্যক্তির যদি কবিরা গুনাহ না থাকে)। (সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৩৩)

৪. জুমু’আর সলাত আদায় করা:

আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ تَوَضّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمّ أَتَى الْجُمُعَةَ، فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ، غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ، وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيّامٍ، وَمَنْ مَسّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا.

“যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করল এবং জুমু’আয় এলো। এরপর মনোযোগসহ খুতবা শুনল ও চুপ থাকল। আল্লাহ তা’আলা তার গত জুমু’আর ও এই জুমু’আর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করে দিবেন; আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহও মাফ করবেন। আর যে ব্যক্তি নুড়ি স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ করল।“
(সহীহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৭)

৫. সলাতে আমীন বলা:

হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِذَا قَالَ الْإِمَامُ: غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضّالِّينَ، فَقُولُوا: آمِينَ، فَإِنّ الْمَلَائِكَةَ تَقُولُ : آمِينَ، وَإِنّ الْإِمَامَ يَقُولُ: آمِينَ، فَمَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.

যখন ইমাম غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ বলেন তখন তোমরাও আমীন বল। কেননা তখন ফিরিশতারাও আমীন বলে। ইমামও আমীন বলে। আর যার আমীন বলা ফিরিশতাদের আমীন বলার সাথে মিলবে তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।“
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ৭১৮৭; সহীহ বুখারী, হাদিস ৭৮০)

৬. রুকু থেকে উঠে: ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ বলা (হে আমাদের প্রতিপালক, সকল প্রশংসা কেবল তোমার।)

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِذَا قَالَ الإِمَامُ: سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَقُولُوا: اللّهُمّ رَبّنَا لَكَ الحَمْدُ، فَإِنّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ المَلاَئِكَةِ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.

“যখন ইমাম سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে তোমরা বল- اللّهُمّ رَبّنَا لَكَ الحَمْدُ। কারণ, যার তাহমীদ ফিরিশতাদের সাথে মিলবে তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।“
(সহীহ বুখারী, হাদিস ৭৯৬; সহীহ মুসলিম, হাদিস ৪০৯)

৭. রমাযান মাসের রোযা:

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন:
…وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ، مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ.

“…এক রমযান থেকে আরেক রমযান এর মধ্যবর্তী সময়ের গোনাহের কাফফারা- গুনাহ মোচনকারী; যদি ওই ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে (ওই ব্যক্তির যদি কবিরা গুনাহ না থাকে)।”
(সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৩৩)

তিনি আরও বলেন:
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
(সহীহ বুখারী, হাদিস ৩৮)

৮. রমযানে কিয়ামুল লাইল (তারাবীহ):

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
مَنْ قامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.

“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের রাতে দণ্ডয়মান হয়, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়।”
(সহীহ বুখারী, হাদিস ৩৭)

৯. লাইলাতুল কদরে কিয়ামুল লাইল বা নফল ইবাদত-বন্দেগি করা:

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
مَنْ قامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে নামাযে দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
(সহীহ বুখারী, হাদিস ১৯০১)

১০. ‘ইয়াওমে আরাফা’ বা আরাফা দিবসে রোযা রাখা:

আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السّنَةَ الّتِي قَبْلَهُ وَالسّنَةَ الّتِي بَعْدَهُ.

“আরাফার দিনের রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করি যে, (এর দ্বারা) বিগত বছরের এবং বর্তমান বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
(সহীহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২)

১১. আশুরার রোযা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহররম মাসের ১০ তারিখের আশুরার রোযার ফযিলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন:
يُكَفِّرُ السّنَةَ الْمَاضِيَةَ

“এই রোযা বিগত বছরের কাফফারা হয়ে যায়।“
(সহীহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২)

উল্লেখ্য যে, মুহররম মাসের ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখে রোযা রাখা অধিক উত্তম।

১২) হাজ্ব সম্পাদন করা:

হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
مَنْ حَجّ لِلهِ فَلَمْ يَرْفُثْ، وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمّهُ

“যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হাজ্ব করল এবং অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকল সে ঐ দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে হাজ্ব থেকে ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে ভূমিষ্ঠ করেছিলো।“
(সহীহ বুখারী, হাদিস ১৫২১)

১৩. উমরা সম্পন্ন করা:

হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
العُمْرَةُ إِلَى العُمْرَةِ كَفّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا

“এক উমরা আরেক উমরার মাঝের গুনাহগুলোর কাফফারা হয়ে যায়।“
(সহীহ বুখারী, হাদিস ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদিস ১৩৪৯)

১৪. মুসাফাহা করা:

বারা ইবনে আযেব রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَلْتَقِيَانِ فَيَتَصَافَحَانِ إِلّا غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَفْتَرِقَا.
“সাক্ষাৎকালে দু’জন মুসলিম যখন মুসাফাহা করে তখন তারা পৃথক হওয়ার আগেই তাদেরকে মাফ করে দেওয়া হয়।“ (জামে তিরমিযী, হাদিস ২৭২৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫২১২)

১৫. খাওয়ার পর দু’আ পাঠ করা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
مَنْ أَكَلَ طَعَامًا فَقَالَ: الحَمْدُ لِلهِ الّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوّةٍ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যক্তি কোনো খাবার খাওয়ার পর বলে:
الحَمْدُ لِلّهِ الّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوّةٍ
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এ খাদ্য খাওয়ালেন এবং আমার পক্ষ হতে কোন কৌশল ও ক্ষমতা প্রয়োগ ব্যতীতই রিজিক দান করলেন। আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।”
(জামে তিরমিযী, হাদিস ৩৪৫৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪০২৩, সহীহ তারগীব, হাসান লিগাইরিহী, হা/২০৪২)

১৬. কাপড় পরিধানের দু’আ পাঠ করা:

সাহল ইবনে মু’আয ইবনে আনাস আল জুহানী (রহ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যে ব্যক্তি কোন কাপড় পরার সময় এ দু’আ পাঠ করবে তার আগে ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا الثَّوْبَ وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي، وَلَا قُوَّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার কৌশল ও ক্ষমতা প্রয়োগ ব্যতীতই আমাকে এ কাপড়ের ব্যবস্থা করে পরালেন।”
(সহীহ তারগীব, হাসান লিগাইরিহী, হা/২০৪২)
উল্লেখ্য যে, কোনো কোনো বর্ণনায়, খাদ্য খাওয়া ও পোশাক পরিধানের দু’আ পড়ার ফলে পূর্বাপর সকল গুনাহ মোচনের কথা এসেছি। কিন্তু মুহাদ্দিসগণের মতে ‘পরবর্তী গুনাহ মোচন’ এর কথাটি সহিহ নয়।

এছাড়াও যত ধরণের নেকির কাজ আছে সব নেকির কাজ দ্বারা আল্লাহ বান্দার গুনাহ মোচন করেন। কেননা আল্লাহ তাআলা সূরা হুদ এর ১১৪ নং আয়াতে বলেছেন, “নিশ্চয় নেকির কাজ গুনাহ সমূহ দূর করে দেয়।”
সুতরাং কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, মানুষের সাথে ভালো আচরণ, পরপোকার, যিকির-আযকার ইত্যাদি সকল প্রকার ইবাদত দ্বারা আল্লাহ বান্দার গুনাহ মোচন করেবন ইনশাআল্লাহ।

নেক আমল (সৎকর্ম) এর মাধ্যমে কোন ধরণের পাপ মোচন হয়?

– প্রখ্যাত তাবেঈ আত্বা রহ. এবং অন্যান্য বিদ্বানগণ বলেছেন যে, “সৎকর্ম শুধু মাত্র ছোট পাপগুলোকেই মোচন করে।”
– অধিকাংশ বিদ্বানদের অভিমতও এটাই যে, ছোট পাপ মোচনের জন্য বড় পাপ থেকে বিরত থাকা শর্ত।
– কাতাদাহ রহ. বলেন, “আল্লাহ তো ক্ষমার অঙ্গিকার সেই ব্যক্তিদের জন্যই করেছেন যারা কবিরা বা বড় গুনাহ থেকে বিরত থকে।” আল্লাহু আলাম।

পরিশেষ দু’আ করি, মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ছোট-বড় সকল প্রকার গুনাহ থেকে বাঁচার তওফিক দান করুন এবং যে সকল গুনাহ সংঘটিত হয়ে গেছে সেগুলো ক্ষমা করে আমাদেরকে জীবনকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করুন। আমীন।

– শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

IFM desk

নেকের ভান্ডার, মাসিক আল কাউসার প্রশ্ন উত্তর, মাসিক আল এহতেশাম pdf, দ্বীনিয়াত মাসিক আল কাউসার, মাসিক আল কাউসার প্রচলিত ভুল, রমজান মাসিক আল কাউসার, মাসিক আল কাউসার তাবিজ, মাসিক আল কাউসার app




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD