পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান দ্বিপাক্ষিক বহুস্তরের সহযোগিতাকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার নতুন করে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। রোববার তুরস্কে এক সরকারি সফরে গিয়ে শেহবাজ প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে এক উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক করেন। দুই নেতা আঞ্চলিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং উভয় দেশের জনগণের যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।
এই বৈঠকে পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক, গভীর ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনরায় প্রতিফলিত হয়, যা পারস্পরিক মূল্যবোধ, সম্মান এবং উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য দ্বারা সুদৃঢ়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতিমি। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক ঘটনার সময় পাকিস্তানের পাশে থাকার জন্য তুর্কি সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এটিকে দুই জাতির ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের শক্ত প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি তুর্কি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও শুভকামনার প্রশংসা করে বলেন, এটি পাকিস্তানের জন্য এক বড় সাহস ও শক্তির উৎস।
শেহবাজ শরীফ পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগ, প্রতিশ্রুতি এবং দেশের প্রতি জনগণের অনমনীয় দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মারক-এ-হক’ ও ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’-এ পাকিস্তানের বিজয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি যৌথ বিনিয়োগ ও প্রকল্পের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, অবকাঠামো নির্মাণ ও কৃষি খাতকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকারযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণ পর্যালোচনা করেন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সপ্তম উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। দুই দেশ পূর্ববর্তী এক চুক্তির আলোকে বার্ষিক ৫ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একমত হয় এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়।
দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও শেহবাজ শরীফ ও প্রেসিডেন্ট এরদোগান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং একে অপরের মূল উদ্বেগের বিষয়গুলোতে নীতিগত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন, যার মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুও রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ এবং তার সফরসঙ্গীদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন।