শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন




রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা প্রদর্শন, ব্যাহত নাগরিক জীবন: এএফপি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫ ৯:১৯ pm
রাজনীতি bnp বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিএনপি গণসমাবেশ Bangladesh Nationalist Party BNP Mirza Fakhrul Islam Alamgir বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর mass sit-in programme bnp গণঅবস্থান
file pic

এএফপি’র প্রতিবেদন

বিক্ষোভ, আন্দোলন এখন বাংলাদেশের রাজধানীর নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর নগরবাসী হয়ত রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে অথবা তাদের এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ওই বছরের যেদিনটিতে দেশের সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাত্রা করেন সেদিন হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান হাসিনা। ১৫ বছরের দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিক্ষোভ দমনে পেসার কুকারের ভূমিকায় ছিলেন হাসিনা। ছাত্র নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে পতন হওয়ার আগ পর্যন্ত এভাবেই দমনপীড়ন চালিয়েছেন তিনি।

বুধবার দুই কোটির বেশি জনসংখ্যার মেগাসিটি ঢাকায় অর্ধ ডজনের বেশি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি ছিল ভোগান্তির। যেখানে রাজনৈতিক সমাবেশ এবং পাল্টা প্রতিবাদ থেকে শুরু করে শ্রমিক ধর্মঘট ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতার মুক্তির উদযাপনও ছিল। এদিন দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি পান জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৪ বছর কারাভোগ করার পর আজ সকালে আমি মুক্তি পেয়েছি। তার মুক্তি উপলক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিপুল পরিমাণ মানুষ উপস্থিত হয়। তার দল বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী দেশটির সর্ববৃহৎ ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। মঙ্গলবার তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে যুদ্ধাপরাধের দায় থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর একদিন পর ঢাকার একটি হাসাপাতাল থেকে প্রবীণ এই নেতাকে মুক্তি দেয়া হলে তাকে ঘিরে উল্লাস প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। আজহার বলেছেন, অতীতে আমার ওপর কোনো ন্যায়বিচার করা হয়নি। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে জনগণ যেন ন্যায়বিচার পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করবে আদালত। তার মুক্তিতে ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশের বামপন্থী দলগুলো। তারা বড় বিক্ষোভের কথা জানিয়েছে। এদিকে একই দিনে নয়া পল্টনে বৃহৎ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একাধিক অঙ্গসংগঠন। সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রত্যাশিতভাবেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেই নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

‘অপ্রত্যাশিত’
রাজধানী ঢাকায় যখন হাজার হাজার মানুষ তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে নেমে আসেন তখন নিজেদের গন্তব্যের প্রতিক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকেন নগরবাসী। জাকির হোসেন। যিনি একজন মুরগি বিক্রেতা। বুধবার তিনি বলেছেন, আজকে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে আছে। যারফলে আমাদের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে। আমাকে এখন মধ্যরাতেও কাজ করতে হচ্ছে। এদিকে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার অবস্থারও বেশ অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাকির। ছিনতাই এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে উঠেছে। গত বছর হাসিনাকে রক্ষা করতে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছিল পুলিশ। অবশ্য তারা ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে তাদের অনেকেই উদ্বিগ্ন।

রাজধানীতে এমন অস্থিরতা অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকার এক গৃহিণী। যার বয়স ৪৩ বছর। তিনি বলেছেন, এসব বিক্ষোভ যেকোনো সময় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তার স্বামী একজন সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই নারী। বলেছেন, আমি কখনই আমার স্বামীকে তেমন কল দিতাম না, তবে এখন দিচ্ছি। অফিস থেকে বাড়িতে ফিরতে তার যদি সামান্য দেরিও হয়- আমি তাকে কল দেই। ওই সময়গুলোতে আমার মাথায় শুধু বাজে বাজে চিন্তা আসতে থাকে। অর্থাৎ তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বপালন করবেন শান্তিতে নোবেল পাওয়া ৮৪ বছর বয়সী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার কথা বলেছেন এবং রাজনৈতিক লড়াই শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘অযৌক্তিক দাবি’ সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করছে বলে শনিবার সতর্ক করেছে সরকার।

‘ভারসাম্য’
ডিসেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচন হতে পারে তবে সংস্কার দেরি হলে সরকারকে কিছুটা সময় দেয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূস। এদিকে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সমাবেশ আয়োজনকারী শক্তিশালী দল বিএনপি। এছাড়া ইউনূস সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার পদত্যাগও দাবি করেছে দলটি। অন্যান্য বিক্ষোভকারী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আদায়কারী কর্মীরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটির পুনর্গঠনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে, দুই সপ্তাহের আংশিক ধর্মঘট পালন করেছেন তারা। রোববার যখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়ের সামনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে ফেলে তখন পরিস্তিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পরে সরকার তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে। এ সপ্তাহে সরকারি চাকরিজীবীরা সচিবালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাদের বিরুদ্ধে নতুন যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে সেটার বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে সরকার।

অন্যদিকে রাস্তায় এখনও বিক্ষোভ চলছে। মুহাম্মদ সাজ্জাদ নামের এক ব্যাংক ম্যানেজার বলেছেন, রাস্তা বন্ধ থাকায় ব্যাংকে গ্রাহকদের উপস্থিতি খুবই কম। যদিও তিনি সমাবেশের অধিকার সমর্থন করেন। তবে তার আহ্বান হচ্ছে সরকার যেন সমাবেশের জন্য এলাকা নির্ধারণ করে দেয়। অনিক হাসান নামের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের এক প্রভাষক বলেছেন, এমন পরিস্থিতি পড়াশোনারও বেশ ক্ষতি করছে। রাস্তায় তীব্র জ্যামের ফলে বহু শিক্ষার্থী তাদের ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না। এখানে ভারসাম্য রক্ষা করা দরকার বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রভাষক। তিনি বলেন, আমরা কেবল আশা করতে পারি যে, সকল পক্ষই জনসাধারণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার ঐকমত্যে পৌঁছাবে।

মানবজমিন




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD