শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন




৩.৩% জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখলো বিশ্বব্যাংক

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫ ৪:৫৬ pm
World Bank WB বিশ্বব্যাংক বিশ্ব ব্যাংক wb
file pic

বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে বিশ্ব ব্যাংক। মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ (বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত বুধবার প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট: ট্যাক্সিং টাইমস’ শীর্ষক প্রতিবেদনেও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংক।

তার আগে জানুয়ারিতে প্রকাশিত গত ১৭ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া আগামী অর্থবছরে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক, যা জানুয়ারিতে প্রকাশিত পূর্বাভাসের চেয়ে দশমিক ৫ শতাংশ কম।

এদিকে গত ২৭ মে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, এবার ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

অর্থ বছরের নয় মাস—গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস।

গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের সাময়িক হিসাবে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বলা হয়েছিল। চূড়ান্ত হিসাবে অবশ্য তা কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে আসে।

আওয়ামী লীগ সরকার তাদের অর্জনের খাত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে বরাবরই সামনে ধরে আসছিল।

২০০৮-০৯ অর্থ বছরে দেশে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অর্জিত হয় ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ওই প্রবৃদ্ধি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

পরের বছর কোভিড মহামারির ধাক্কায় তা ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে আসে। ২০২০-২১ অর্থ বছরে তা আবার বেড়ে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে উঠেছিল। পরের বছর (২০২১-২২) ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ১০ শতাংশে উঠলেও ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আবার কমে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমে আসে।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছিল গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনে অন্তর্বর্তী সরকার।

গত ২ জুন ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির হালচাল নিয়ে বলা হলেও বাংলাদেশ নিয়ে তেমন কিছু বলা হয়নি। শুধু একটি সারণীতে বিভিন্ন দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এপ্রিলে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ক্রমাগত আর্থিক চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমবে।

বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি কমার কারণ হিসেবে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, “প্রাথমিকভাবে গত গ্রীষ্মে সামাজিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে উদ্ভূত ‘ব্যাঘাতগুলোর’ প্রভাব পড়েছে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে। ব্যবসা-বাণিজ্য বিঘ্ন হওয়ার ক্ষেত্রে এর যেমন প্রভাব দেখা গেছে; তেমনি মূল্যস্ফীতির স্থায়িত্ব বাড়িয়েছে, ব্যাংক খাতের অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে, সরকারের পরিচালনার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

“দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত কোন দিকে যাবে সেটি নিয়েও সাধারণ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ সবকিছুর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বিনিয়োগ কমার ক্ষেত্রে।”

শুধু বিশ্ব ব্যাংক নয়, অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে। গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, বাংলাদেশে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এর আগে সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছিল, ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।

বাণিজ্য উত্তেজনায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমবে

২০২৫ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপ্রেক্ট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হবে। উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রায় সব অর্থনীতির জন্যই একটি বড় ‘প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনটিতে তাদের মাত্র ছয় মাস আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে বলে জানানো হয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপ এবং উদীয়মান ছয়টি অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে।

সংস্থাটির মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একের পর এক শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর শুল্কহার ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে দুই অঙ্কে উঠেছে, যা গত প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ। চীনসহ অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক বৃদ্ধির পাল্টা জবাব দিয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংক ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, শুল্ক বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এবং এখনো অনুমোদন না পাওয়া করছাড় নীতির মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

বিশ্ব ব্যাংক সরাসরি মন্দার পূর্বাভাস না দিলেও জানিয়েছে, চলতি ২০২৫ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে এমন এক দুর্বল অবস্থায় নামবে, যা ২০০৮ সালের পর মন্দার পর সবচেয়ে দুর্বল।

আগামী ২০২৭ সাল নাগাদ বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ১৯৬০-এর দশকের থেকে কোনো একক দশকে সবচেয়ে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD