শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন




গত ১৮ মাসে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫ ৫:২৫ pm
মিয়ানমার বার্মা উখিয়া Rohingya Refugee people Ethnic group Myanmar stateless Rakhine রাখাইন রোহিঙ্গা শরণার্থী জনগণ সংকট মিয়ানমার উচ্ছেদ বাস্ত্যুচ্যুত ক্যাম্প উখিয়া নাগরিক
file pic

গত ১৮ মাসে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচআর)। নতুন আগত রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

শুক্রবার (১১ জুলাই) জেনেভা থেকে প্রকাশিত সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা, নিপীড়ন ও সংঘাত হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে আবারও বাংলাদেশমুখী হতে বাধ্য করছে।

ইউএনএইচআর জানায়, ২০১৭ সালের পর থেকে এটি রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সবচেয়ে বড় ধারা। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের প্রতি উদার আচরণ দেখিয়ে আসছে এবং বহু প্রজন্ম ধরে তাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজারে মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে, যা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্প হিসেবে বিবেচিত।

সংস্থাটি আরও জানায়, এই নতুন আগতদের মধ্যে জুন মাসের শেষ নাগাদ প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধন করা হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আরও অনেকে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পে প্রবেশ করে বসবাস শুরু করেছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে গত দেড় বছরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা। আজ শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত এবং বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গত কয়েক মাসে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য দাতা সংস্থা এসব শরণার্থীকে মানবিক সহায়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মূলত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন করে শরণার্থী যোগ হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। যারা নিবন্ধিত শরণার্থী তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান করছে দাতা সংস্থাগুলো। তবে, যারা নিবন্ধনের আওতায় আসেনি; তাদের কাছে খাবার, চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রীসহ মৌলিক পরিষেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের।

ইউএনএইচসিআরের শঙ্কা, বর্তমানে বৈশ্বিক সহায়তা তহবিল তীব্র সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন শরণার্থী বৃদ্ধি পেলে জরুরি পরিষেবা শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। শিগগির অতিরিক্ত তহবিল নিশ্চিত না করা হলে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং প্রয়োজনীয় রান্নার জ্বালানি (এলপিজি) ফুরিয়ে যাবে। ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশুর শিক্ষাসুবিধা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আর এদের মধ্যে প্রায় ৬৩ হাজার নতুন করে বাংলাদেশে আসা শিশু।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত এবং নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD