শ্রদ্ধা ভালোবাসা আর শোকের মধ্য দিয়ে আজ সকাল ৯টায় শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। আবু সাঈদ যেন এক আলোকবর্তিকা। আজকের এই দিনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া আবু সাঈদকে স্মরণ করে কাঁদছে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন সর্বস্তরের জনসাধারন। অন্যদিকে,‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট থেকে একটি শোক র্যালি বের হয়ে নগরীর পার্কের মোড়, মডার্ণ মোড় ঘুরে শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বেরোবি প্রশাসন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আলোচনায় উপস্থিত রয়েছেন, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড.চৌধুরি রফিকুল আবরার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ-বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীরপ্রতীক। অনুষ্ঠানে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন প্রধান অতিথি রয়েছেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. তানজীমউদ্দীন খান।
এর আগে সকালে পীরগঞ্জের বাবনপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে ভিসি অধ্যাপক ড. শওকাত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামীসহ সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই বিপ্লবে নিহতদের স্মরণে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকী ও ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ।
দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আজ বেরোবি’র স্বাধীনতা স্মারক মাঠে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের চারজন উপদেষ্টাও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তাঁরা হলেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল; শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার; পানিসম্পদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
এছাড়াও থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম.এ.ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. তানজীমউদ্দীন খান।
জুলাই শহীদ দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ভোর সাড়ে ৬টায় পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়ার বাবনপুর গ্রামের উদ্দেশে ক্যাম্পাস থেকে যাত্রা; সকাল সাড়ে ৭টায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত; সকাল সোয়া ৯টায় কালো ব্যাজ ধারণ ও শোকর্যালি এবং সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
এরপর সোয়া ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন; সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।
বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।