আধুনিক ক্রিকেটে পাওয়ার হিটিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টিতে ধারবাহিক হতে হলে তো যেকোনো ব্যাটারের জন্যই পাওয়ার হিটিং দক্ষতা অপরিহার্য। আর এই জায়গাতেই বাংলাদেশি ব্যাটারদের ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন তরুণ ব্যাটার পাওয়া হিটিংয়ে উন্নতি করলেও দল হিসেবে এখনো বেশ পিছিয়ে টাইগাররা। তাই পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি করতে এবার বিশেষ কোচ নিয়োগ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আগামী ৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হবে এশিয়া কাপের আসর। সেই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে টাইগারদের শট খেলার পরিসর বাড়াতে সহায়তা করার জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডকে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। আগামী আগস্টে ঢাকায় এসে তিন সপ্তাহ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবেন এই ইংলিশ কোচ। তার তত্ত্বাবধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপের জন্য প্রস্তুতি নেবে লিটন দাসের দল।
শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ব্যস্ত সূচি শেষ করে এখন বিশ্রামে থাকা জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা আগামী ৬ আগস্ট থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করবেন। এই ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগেই জুলিয়ান উড ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন এবং তিন সপ্তাহের জন্য খেলোয়াড়দের দীক্ষা দেবেন। বিসিবির এক বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্যই জানিয়েছে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ।
সাদা বলের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে বদলে দেওয়ার কারিগর মনে করা হয় জুলিয়ান উডকে। ক্রিকবাজকে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সিমোর (ফিল সিমন্স) সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আগষ্টে আমি মূলত তিন সপ্তাহের জন্য আসছি। আমি এমনটাই শুনেছি। কিন্তু এটা এখনো নিশ্চিত নয়। বেশিদিনের জন্যও হতে পারে। আপনি বিসিবির সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এশিয়া কাপকে সামনে রেখে আগষ্টে ঢাকায় আসব। আমি জানি না, এটা (চুক্তি বাড়বে কি না) বিসিবির উপর নির্ভর করছে।’
টি-টোয়েন্টিতে ‘পাওয়ার হিটিং’ কথাটা মূলত উডেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। আইপিএল, পিএসএল, বিগ ব্যাশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ইংল্যান্ডের সাবেক এই ক্রিকেটারের। এমনকি বিপিএলে সিলেট সানরাইজার্সের ব্যাটিং কোচ এবং চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশেও এসেছিলেন তিনি।
টাইগারদের কীভাবে দীক্ষা দেবেন সে ব্যাপারে ধারণা দিয়েছেন উড, ‘বাংলাদেশে অনেক প্রতিভা আছে। সাদা বলের ক্রিকেটে শক্তিশালী শট খেলা এখন ব্যাটিংয়ের বড় অংশ। আমার কাজ হবে কীভাবে ক্রিকেটাররা নিজের শক্তি কাজে লাগাবে, কীভাবে সেই শক্তি উৎপন্ন করবে এবং সেটাকে আরও কার্যকরভাবে কীভাবে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে তথ্য দেওয়া।’
পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের দায়িত্বে নেয়ার গুঞ্জন ছিল উডের। অতীতে সেই আলোচনা ফলপ্রসু না হলেও এবার দায়িত্ব পেয়ে খুশি তিনি, ‘আমি এই তিন সপ্তাহের জন্য ভীষণভাবে উন্মুখ হয়ে আছি, কারণ ওখানে আমার আগেও অভিজ্ঞতা আছে। তারা এ বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরেই কথা বলছিল। আমি মনে করি, তারা গত তিন-চার বছর ধরেই এটা নিয়ে আলোচনা করেছে। কিছুই হয়নি, কিন্তু এবার হচ্ছে—এতেই আমি খুশি।’
এদিকে পাওয়ার-হিটিং কোচ নিয়োগের পাশাপাশি একজন স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বিসিবি, যাতে ক্রিকেটাররা মানসিক দিকগুলো ভালোভাবে সামলাতে পারেন। এই পদে ডেভিড স্কট বিবেচনায় আছেন, যিনি আগে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটে কাজ করেছেন। তবে ভাষার সমস্যা এড়াতে এবং স্থানীয়দের শেখার সুযোগ দিতে একজন স্থানীয় সাইকোলজিস্টও নিয়োগের পরিকল্পনা আছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির।