বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন




ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের নানা আশ্বাস, সতর্ক শিক্ষার্থীরা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ১১:৫৭ am
Dhaka University TSC Teacher Student Centre tsc dhaka university public space public place Roads pavement public squares parks beaches square park beache Road পাবলিক প্লেস পাবলিক প্লেস পাবলিক পরিবহন ধূমপানমুক্ত ঢাবি du ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিইউ Dhaka University tsc শিক্ষক ছাত্র কেন্দ্র টিএসসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু Dhaka University Central Students' Union DUCSU ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু DU
file pic

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রদলসহ কয়েকটি স্বতন্ত্র প্যানেল। এ ছাড়া আজ ইশতেহার ঘোষণা করবে শিবির সমর্থিত প্যানেল। ইশতেহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যা তুলে ধরছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যৌক্তিক সমাধানের। তবে সতর্কভাবে সবকিছু পর্যালোচনা করছে শিক্ষার্থীরা। ইশতেহার কতোখানি বাস্তবায়ন সম্ভব, সে হিসাব-নিকাশ কষছেন ভোটাররা। এদিকে ডাকসু নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই।

বহিরাগত নিয়ন্ত্রণসহ ছাত্রদলের ১০ দফা ইশতেহার: বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে তিনটি অঞ্চলে (সবুজ, হলুদ ও লাল) ভাগ করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীবান্ধব নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে মোট ১০ দফা অঙ্গীকার করেছে। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের বটতলায় আসন্ন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত ইশতেহারে এই অঙ্গীকার করেছে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল। সংবাদ সম্মেলনে এই প্যানেলের জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমের সঞ্চালনায় ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ইশতেহারের এসব অঙ্গীকার তুলে ধরেন। এ সময় ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদসহ অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী, আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আমরা ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই ইশতেহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা নির্বাচিত হলে এগুলো বাস্তবায়নে চেষ্টা করবো। এই ১০ দফা ইশতেহার হলো- ১. শিক্ষা ও গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক, আনন্দময়, বসবাসযোগ্য ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। ২. নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ৩. শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য বীমা নিশ্চিত করা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণ ও চলাচল সহজতর করা। ৪. কারিকুলাম, অবকাঠামো ও পরীক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গবেষণার মানোন্নয়ন করা। ৫. পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটারিচালিত শাটল বাস সার্ভিস প্রচলন এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা। ৬. হয়রানিমুক্ত প্রশাসনিক সেবা, শিক্ষাঋণ ও ক্যাম্পাসভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ৭. তরুণদের গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্তকরণ এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা। ৮. শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল সুবিধা, সাইবার সিকিউরিটি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ করা। ৯. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরি করা। ১০. কার্যকর ডাকসু ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা।

ইশতেহারের পঞ্চম দফায় পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটারিচালিত শাটল বাস সার্ভিস প্রচলন এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা অংশে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে গ্রিন, ইয়েলো ও রেড জোনে ভাগ করে যানবাহন ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করা হবে। গ্রিন জোনে ঢাকা মেডিকেল, বাংলা একাডেমি ইত্যাদি জনবহুল জায়গা থাকবে। ইয়েলো জোনে অডিটোরিয়ামের মতো এরিয়া; যেখানে অতিথি, অ্যালামনাই ও অন্য ব্যক্তিরা যথাযথ পরিচয় প্রদানের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারবেন। আর রেড জোনে আবাসিক ও একাডেমিক এরিয়া; যেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে।’ ইশতেহারের প্রথম দফায় শিক্ষা ও গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক, আনন্দময়, বসবাসযোগ্য ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা অংশে আবিদুল ইসলাম বলেন, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি, জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দমন-পীড়নের মতো ঘৃণিত চর্চা বন্ধ করে ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব থেকে চিরকালের জন্য মুক্ত করা হবে। এ ছাড়া, ১০ দফা ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংকট সমাধানে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

একাডেমিক এক্সিলেন্স শিবিরের আশ্বাস: এদিকে আজ ইশতেহার ঘোষণা করতে পারে শিবির সমর্থিত প্যানেল। প্যানেলের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভিপি পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে সবার প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করার কাজে মনোযোগ দেবো, পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে চেষ্টা করবো, রেজিস্ট্রার বিল্ডিং আধুনিকায়ন ও পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করবো। প্রশাসন ডিজিটালাইজ করা এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের অবসান করার চেষ্টা করবো। আমরা সেন্ট্রাল মসজিদে কালচারাল হাব করতে চাই। এ ছাড়াও হলের অডিটোরিয়াম, রিডিং রুম ও মাঠ এগুলো ফাংশনাল না এগুলো নিয়ে কাজ করবো। আমাদের ছাত্রী বোনদের কষ্ট হয়, এক হলের ছাত্রীদের অন্য হলে প্রবেশের এক্সেস না থাকায়। হলের ভেতরে গার্ডিয়ান লাউঞ্জ স্থাপন এবং এই এক্সেস আমি আদায় করবো। ডাকসুকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্তি, বাস সিন্ডিকেট নির্মূল এসবও আমাদের পরিকল্পনায় আছে। এ ছাড়া আমাদের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা একাডেমিক এক্সিলেন্সের জায়গাটি নিয়ে আমি কাজ করার চেষ্টা করবো। আর যুগ যুগ ধরে একই সিলেবাসে, একই প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয় এবং শিক্ষকদের কোনো ইভ্যালুয়েশনও হয় না। এ বিষয়টি আর যাতে না হয় সে বিষয়ে আমি লক্ষ্য রাখবো।

স্বতন্ত্রদের একই প্রতিশ্রুতি
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় সকলেই একই রকম সমস্যাগুলোকে সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দিচ্ছেন। এ ছাড়া খুব বেশি অভিনব কোনো ইশতেহার কারও কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তবে ব্যতিক্রম স্বতন্ত্র গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদপ্রার্থী সানজিদা তন্বী। গবেষণায় একাধিক অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি এ পদে বেশ কিছু যৌক্তিক ইশতেহার দেখাতে পেরেছেন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে এ প্রার্থীর। একই অবস্থা স্বতন্ত্র এজিএস পদপ্রার্থী তাহমিদ আল মুদ্দাসসিরের ক্ষেত্রেও।

এদিকে প্রার্থীদের এসব ইশতেহার নিয়ে বিভিন্ন রকম মতামত পাওয়া গেছে শিক্ষার্থীদের। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ আলম অনিক বলেন, প্রার্থীদের সদিচ্ছা থাকলে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে অবশ্যই ইশতেহারের কিছু কিছু দিক বাস্তবে প্রতফলিত করা সম্ভব। তবে অনেক প্রার্থীই ইশতেহারে এমন অনেক কিছু যুক্ত করছেন, যা আদৌতে বাস্তবায়নযোগ্য কিনা এবং তা তার কর্মপরিধির মধ্যে পড়ে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা আছে। দিনশেষে প্রত্যেকেই একটি সুন্দর ক্যাম্পাস গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের সেই লক্ষ্য পূরণে প্রত্যেকেই কাজ করবে বলে আশাবাদী আমি।

এদিকে তিন কারণে অধিকাংশ প্রার্থীর ইশতেহার বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আসিফ রহমান। তিনি বলেন, ডাকসু’র প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে আমার মনে হয় না ইশতেহার বাস্তবায়ন হতে পারবে। তিনটা কারণে। ১. ঢাবির প্রচণ্ড বাজেট সংকট। ২. রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার হানাহানি। ৩. প্রধান কারণ হিসেবে ডাকসু নির্বাচন অনিয়মিত হওয়াটাকে আমি মনে করি।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদ ইমন বলেন, আমরা অনেক ইশতেহার দেখছি; যা ঢাবির ছাত্র হিসেবে স্বপ্নের ক্যাম্পাসের। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে এমন অনেক ইশতেহার দেখেছি, যা এক বছরে বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এই জায়গায় সদিচ্ছা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন করা যাবে না- এমন ইশতেহার যারা দিচ্ছে তাদেরকে ভেবেচিন্তে ভোট দেয়া উচিত। আমরা মনে করছি সব ইশতেহার বাস্তবায়ন না হলেও সদিচ্ছা থাকলে অধিকাংশ বাস্তবায়ন করা যাবে।

প্রসঙ্গত, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ আগামী ৯ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ৫০৯ জন প্রার্থীর মাঝে শীর্ষ পদসহ সভাপতির (ভিপি) জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৮ জন। সবশেষ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৩৯ হাজার ৬৩৯ জনের নাম রয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD