বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন




হাসিনার জন্য কোনো ট্রাভেল পাস নয়, কেবল প্রত্যর্পণই একমাত্র পথ: হুমায়ুন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:৪৭ pm
প্রধানমন্ত্রী সফর pm hasina un হাসিনা ইউএন হাসিনা শেখ প্রধানমন্ত্রী পিএম
file pic

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারত থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি কেবল বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের ধরার জন্য আমাদের (ভারতের সঙ্গে) একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার জন্য পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না; এটি তাদের হস্তান্তর করার বিষয়।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা একজন পলাতক ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসী। তিনি এমন কেউ নন যে, রংপুরে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসছেন, যার জন্য আমরা পাসপোর্ট ইস্যু করব এবং তিনি ভ্রমণ করতে এখানে আসবেন।’

আজ বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের নেতৃত্বে সফররত চীনা প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন জানান, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কোনো পলাতক ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সাধারণ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ইস্যু করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, কারণ বিদ্যমান প্রত্যর্পণ ব্যবস্থাতেই তাকে ফিরিয়ে আনার আইনি কাঠামো রয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়ার কথা উলে¬খ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আদালতের পরোয়ানা এবং বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে নির্ধারিত পদ্ধতিই যথেষ্ট।

তিনি বলেন, ‘আদালতের পরোয়ানা রয়েছে, সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া আছে এবং প্রত্যর্পণ চুক্তিও রয়েছে। তাই পাসপোর্ট ইস্যু করার বা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন বা বাধ্যবাধকতা নেই।’

হুমায়ুন কবির ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশ ছেড়ে পালানোর আগে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য তিনিই দায়ী।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘যে সন্ত্রাসী হাজার হাজার মানুষ হত্যার পর দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাকে কি আমরা একজন সাধারণ ভ্রমণকারী হিসেবে গণ্য করে পাসপোর্ট দেব?’

ঢাকার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় ভারত কর্তৃপক্ষ যেন হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে; সাধারণ ভ্রমণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার ফিরে আসার বিষয়টি কাম্য নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁকে হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি। তাঁকে হস্তান্তর করা উচিত।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তিটি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিদের হস্তান্তরের অনুরোধ জানানোর আইনি ভিত্তি প্রদান করে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এই চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠিত বিচারিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।

প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ঢাকা এই উদ্যোগের মধ্যে কোনো ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা দেখছে না; বরং এটি এই অঞ্চলকে একটি বড় বাণিজ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই প্রস্তাবিত আঞ্চলিক করিডোরে অংশগ্রহণে আগ্রহী। তবে তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, এটি বাস্তবায়নের আগে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, লিউ হাইসিংয়ের সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বিশেষ করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও জোরদার করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা আগামী দিনগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি সঞ্চার করবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD