বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন




মোবাইলে আজানের রিংটোন ব্যবহার করা যাবে?

মোবাইলে আজানের রিংটোন ব্যবহার করা যাবে?

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৩ ৭:৫৮ pm
Audio অডিও masjid masazid maszid islam azan dua doa ajan আজান দোয়া আযান মাসজিদ মাসাজিদ ইসলাম phone silent ringing ring tone ring sound made telephone incoming call bells alerting bell তিলাওয়াত জিকির মোবাইল কোরআন তেলাওয়াত আজান দোয়া বাজানো মোবাইল রিংটোন
file pic

মোবাইলে রিংটোনে কোরআন তেলাওয়াত, আজান, দোয়া বাজানোর প্রবণতা দেখা যায় অনেকের মাঝে। সন্দেহ নেই যারা কাজটি করছেন তারা দরুদ, আজান বা ধর্মীয় বিষয়গুলোর প্রতি মুগ্ধতা ও আলাদা টান থেকেই করে যাচ্ছেন।

তবে আলেমরা বলেন, আজান, তিলাওয়াত, জিকির , দোয়া–এগুলো ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। আর ইবাদত করতে হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। ইবাদতের যথেচ্ছা ব্যবহার ও প্রয়োগ অন্যায়। মোবাইলে রিংটোন হিসাবে এগুলোর ব্যবহার যে অপাত্রে ব্যবহার তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আলেমদের মতে, ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য বিক্রেতার জোরে জোরে সুবহানাল্লাহ বলা, প্রহরী জাগ্রত আছে একথা বুঝানোর জন্য জোরে জোরে জিকির করা ফেকাহবিদদের দৃষ্টিতে অপব্যবহার। তাই রিংটোন হিসাবে আজান, তিলাওয়াত, জিকির, দোয়ার ব্যবহার বৈধ হবে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

phone silent ringing ring tone ring sound made telephone incoming call bells alerting bell তিলাওয়াত জিকির মোবাইল কোরআন তেলাওয়াত আজান দোয়া বাজানো মোবাইল রিংটোন

file pic

এ ছাড়া রিংটোন হিসাবে আজান, তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ব্যবহারের আরও বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন আলেমরা। যেমন-

১. মোবাইলের রিংটোনে কোরআনের তিলাওয়াত বেজে উঠলে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ব্যস্ততার কারণে তিলাওয়াতের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার সুযোগ হয় না। তাই কে রিং করেছে তা দেখা ও কল রিসিভ করার ব্যস্ততা তো লেগেই থাকে এ কারণেও তিলাওয়াতের আদব রক্ষা করে শ্রবণ করা হয় না।

২. মোবাইলের রিংটোনে কোরআনের তিলাওয়াত বেজে উঠলে রিসিভের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এটিই মূল উদ্দেশ্য থাকে তাই আয়াতের যেকোনো স্থানেই তিলাওয়াত চলতে থাক সে দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে রিসিভ করে ফেলে। এতে অনেক ক্ষেত্রে উচ্চারিত অংশের বিবেচনায় আয়াতের অর্থ বিকৃত হয়ে যায়।

৩. মোবাইল নিয়ে টয়লেট কিংবা বাথরুমে প্রবেশের পর রিং বেজে উঠলে অপবিত্র স্থানে আল্লাহ তায়ালার পবিত্র কালাম, জিকির ও আজান বেজে উঠবে। এতে এর পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হয়।

আলেমরা আরও বলেন, মোবাইল রিংটোন বাজানো হয় সাধারণত কাউকে ডাকা, জাগানো বা সতর্ক করার জন্য। কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দুরুদ ও জিকির মানুষকে ডাকে পাঠানো বা সর্তক করার জন্য নির্ধারণ করেনি ইসলাম। ইসলামের এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজস্বতা ধ্বংস করে ভিন্ন পথে ব্যবহারের সুযোগ নেই।

ফেকহের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, আল্লাহ তায়ালার নাম, কুরআনের আয়াত বা দরূদ শরিফ, জিকির ইত্যাদি কাউকে ডাকা, সতর্ক করার জন্য ব্যবহার ইসলামে বৈধ নয়।

-(আততিবয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন-ইমাম নববী ৪৬, হক্কুততিলাওয়া- হুসাইনী শাইখ উসমান ৪০১, ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/৩১৫, আলমুগনী ৪/৪৮২, রদ্দুল মুহতার ১/৫১৮, ১/৫৪৬, আলাতে জাদীদা, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ., আলকাফী ১/৩৭৬, আলআশবাহ ৩৫)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD