রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন




ঈদের কেনাকাটা

রমজানের শেষ সপ্তাহে টুপি-জায়নামাজ-সুগন্ধির দোকানে ভিড়

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৪ ৮:৩৩ pm
tupi-sell Hat Cap topi DJ Cap tupi টুপি টুপি আতর জায়নামাজ টুপি-আতর-জায়নামাজের
file pic

ঈদুল ফিতরের আর সপ্তাহখানেক বাকি। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে ঘিরে রমজানের শুরু থেকেই চলছে প্রস্তুতি। ঘরের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে নতুন পোশাক কিনছেন ক্রেতারা। রমজানের শেষ সপ্তাহে ভিড় বাড়ছে ঈদের জামাতের অন্যতম অনুষঙ্গ আতর, সুরমা, তসবিহ, টুপি ও জায়নামাজের মতো পণ্যের দোকানগুলোতে।

ঈদের দিন নতুন পোশাকের সঙ্গে নতুন সুগন্ধি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। তাই ক্রেতারা ভিড় করছেন সুগন্ধির দোকানগুলোতে। একইসঙ্গে টুপি, জায়নামাজ, সুরমা, হাজী রুমাল, হিজাব কিনতে ভিড় করছেন এসব পণ্যের দোকানেও। ক্রেতারা বলছেন, নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই নতুন টুপি আর সুগন্ধি তাদের মনকে আরও সতেজ করবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে পাওয়া যায় বিভিন্ন রকমের আতর, টুপি ও জায়নামাজ। মসজিদের দক্ষিণ ফটকের সামনেও বসেছে বেশ কিছু ভাসমান দোকান। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) এসব দোকান ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় তাদের বিক্রি-বাট্টা এবছর কম হচ্ছে।

টুপি-জায়নামাজ বিক্রি করেন বেলাল হোসেন। তিনি জানান, তার কাছে বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, চীন ও আফগানিস্তানের টুপিও আছে। যেসব টুপির দাম ১০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।জায়নামাজ আছে ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দামের পর্যন্ত। আর সৌদি আরব ও ভারতের হাজি রুমাল আছে ১০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

‘গাজী জায়নামাজ’ ঘর নামের দোকানের বিক্রেতা ইমন হোসেন জানান, তাদের কাছে ৩৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা দামের জায়নামাজ আছে। আর হাজী রুমাল আছে ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

টুপি জায়নামাজের আরেক বিক্রেতা মো. রিয়াজ আলী জানান, তার কাছে ১০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় হাজার টাকা দামের টুপি আছে। রিয়াজ বলেন, পাকিস্তানি জিন্নাহ টুপির দাম সবচেয়ে বেশি, এটার দামই ১৫০০ টাকা। এসময় তিনি জিন্নাহ টুপি বের করে দেখান।

‘এবছর ব্যবসা মন্দা’, অভিযোগ করে করে রিয়াজ বলেন, ‘গত বছর রোজার এই সময়ে দোকানের সামনে কাস্টমার দাঁড়ানোর জায়গা থাকতো না। আর এবার ফাঁকাই বলা যায়। এবছর ব্যবসা সেরকম হচ্ছে না। গত বছর ২১ রোজার পর থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু এবার সেটা ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে আটকে আছে।’

তবে জুয়েল রানা নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘আমার ব্যবসা ভালোই হচ্ছে। মানুষ জায়নামাজ আর হিজাব বেশি কিনছে। আশা করছি বিক্রি আরও বাড়বে।’

কোন টুপির চাহিদা বেশি জানিয়ে এক বিক্রেতা বলেন, ‘এখন পাকিস্তানি টুপির চাহিদাই বেশি। ইয়াং ছেলেরা পাকিস্তানি টুপিটা ভালোই কিনছে এবার। এই টুপিতে হাতের কাজ করা থাকে।’

টুপির দোকানের সামনে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। কেউ কিনছে কেউবা দেখে রেখে দিচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ আবার অভিযোগ করছে বেশি দাম রাখার। ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে টুপি আর হাজি রুমাল কিনতে বের হয়েছেন মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘আজ ছোট ভাইয়ের জন্য টুপি আর কাশ্মীরি রুমাল কিনেছি। আর আমার জন্য শুধু টুপি কিনেছি। পাঞ্জাবি আর অন্যান্য কেনাকাটা আগেই শেষ করেছি।’

সাদ্দাম হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আমি টুপি আর জায়নামাজ কিনেছি। জায়নামাজের দাম ঠিকই আছে। কিন্তু টুপির দাম বেশি রাখছে তারা। যে টুপির দাম একশো টাকা, সেটা দেড়শো টাকা পর্যন্ত দাম চাইছে।’

এসময় জলিল শেখ নামের এক ক্রেতা বিক্রেতার কাছে জানতে চান সবচেয়ে দামি টুপি কোনটা। পাকিস্তানি জিন্নাহ টুপির কথা শুনে সে ওটাই পরে দেখতে চান। তিনি বলেন, ‘জিন্নাহ তো মারা গেছে কবেই, এখনও তার টুপির এতো দাম! দামি টুপি, পরে দেখলাম কেমন লাগে।’

তাহমিনা আক্তার নামের এক ক্রেতা এসেছিলেন হিজাব কিনতে। তিনি বলেন, আমি নিয়মিতই হিজাব পরি। তাই ঈদ উপলক্ষে নতুন হিজাব কিনতে এসেছিলাম। সব পোশাকের সঙ্গে তো সব রঙের হিজাব পরা যায় না। তাই বিভিন্ন রঙের হিজাব কিনতে হয়।

ঈদের সকালে নামাজে যাওয়ার জন্য অনেকেই সুগন্ধি হিসেবে আতর ব্যবহার করে থাকেন। তাদের ভাষ্য আতর পবিত্রতা আর সতেজতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তাই টুপি জায়নামাজের সঙ্গে নিজেকে সতেজ রাখতে সুগন্ধি ব্যবহার করেন। এসময় বিক্রেতারা জানান আতরের দরদাম, আর দেখান সুসজ্জিত সুগন্ধির বোতলগুলো।

আল হারামাইন সুন্নাহ শপের বিক্রেতা মো. ইব্রাহিম জানানা, তার কাছে ৩০০ ফ্লেভারের আতর, উন্নত মানের জায়নামাজ ও জোব্বা আছে। তিনি বলেন, ‘প্রতি মিলিলিটার আতর ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা দামের পর্যন্ত আছে আমার কাছে। আমি আতর দুবাই, সৌদি আরব, ফ্রান্স, ইয়েমেন থেকে আনি। এছাড়া আমাদের দেশের বিখ্যাত আগর আতরও আছে আমার কাছে। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আতর।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওসব দেশ থেকে আমি এক্সক্লুসিভ জায়নামাজ, জুব্বাও আনি। আমার এখানে ১ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দামের জায়নামাজ আছে।’

মাসুম ভুইয়া নামের আরেক বিক্রেতা জানান, ২০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের আতর আছে। এছাড়া ২০ টাকা থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তসবি আছে। তিনি বলেন, আকিক পাথরের তসবি সবচেয়ে দামি হয়।

সাজ্জাদ হোসেন নামের এক ক্রেতা এসেছিলেন আতর কিনতে। তিনি বলেন, নামাজ পড়তে গেলে আমি সবসময়ই আতর ব্যবহার করি। এছাড়া অন্যান্য সময়েও ব্যবহার করা হয়। এটা ব্যবহার করলে আমার নিজেকে ফ্রেশ লাগে।

আরিফ হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘সুগন্ধি ব্যবহার করা আমার অভ্যাস। কিন্তু অ্যালকোহল থাকে বলে নামাজ পড়তে গেলে সাধারণ পারফিউম ব্যবহার করা যায় না। তাই আতর ব্যবহার করি। আর এখন পারফিউমের মতোই ঘ্রাণের আতর পাওয়া যায়। তাই শুধু নামাজে না সবসময়ই আতর ব্যবহার করা যায়।’

আফজাল চৌধুরী নামে আরেক ক্রেতা বলছিলেন, ‘ঈদের নামাজ পড়তে যাবো, আর সুগন্ধি ব্যবহার করবো না এটা আমার হয় না। আমার সুগন্ধি খুবই ভালো লাগে। আর আমি জানি না এটা আমার একারই হয় কিনা, সুগন্ধি আমার মন ভালো রাখে। সুগন্ধি ব্যবহার করলে আমি রিফ্রেশ ফিল করি।’




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD