বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন




আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ও কয়লার দাম নিয়ে বিরোধ

বৃটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬ ৭:৩৪ pm
বিদ্যুৎ loadshedding energy crisis electricity power grid বিদ্যুত বিভ্রাট লোডশেডিং মেগাওয়াট power বিদ্যুৎ বিদ্যুত বিভ্রাট লোডশেডিং মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ loadshedding energy crisis electricity power grid বিদ্যুত বিভ্রাট লোডশেডিং মেগাওয়াট
file pic

কয়লার দাম ও বিদ্যুৎ শুল্ক নিয়ে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) মধ্যস্থতা ও সালিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান থ্রি ভিপি চেম্বার্স নামের লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ও আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে অভিজ্ঞ থ্রি ভিপি চেম্বার্স বাংলাদেশের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করবে। গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, কিংস কাউন্সেল ফারহাজ খান নেতৃত্বাধীন এই চেম্বার্সটি গত কয়েক মাস ধরে আদানির সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনাকারী জাতীয় কমিটিকে পরামর্শ দিয়ে আসছিল।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পাঁচ দিনের মধ্যেই এই আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর আদানি পাওয়ার সিঙ্গাপুরে সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করায় বাংলাদেশকেও আইনি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।

আদানি পাওয়ারের দাবি, বিতর্কিত কয়লা শুল্ক সংক্রান্ত বকেয়া বাবদ বাংলাদেশ তাদের প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেনি। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সালিশে যাওয়ার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হলেও তা চূড়ান্তভাবে বাধ্যতামূলক নয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আদানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি নির্ধারণ করছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কৃত্রিমভাবে বাড়ছে। চব্বিশের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিপিডিবি আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ জোরদার করে।

জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি বৃহস্পতিবার জানায়, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেয়ার মতো শক্ত প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, আদানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু কর্মকর্তার অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে এসব প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রমাণ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে পর্যালোচনা কমিটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছিলেন, চুক্তি যদি দুর্নীতির মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আদানির সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিল করতে পারে।

হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে আলাদা প্রতিবেদনও তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এক কমিটি সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশে ও বিদেশে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে আদানি ও তাদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শক্ত প্রমাণ সামনে আসবে।

তবে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। তার মতে, আইনি ভিত্তি থাকলেও আন্তর্জাতিক আদালতে গেলে সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি আসতে পারে।

বর্তমানে আদানি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জুনে এককালীন ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল পাওনা মিটিয়েছে। এর আগে অর্থ পরিশোধে জটিলতার কারণে আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল, তবে বকেয়া পরিশোধের পর পূর্ণ সরবরাহ আবার চালু হয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD