শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন




সংসদ সদস্যদের খেলাপি ঋণ ৩৩৩০ কোটি: অর্থমন্ত্রী

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:১৬ pm
JS Bangladesh National Parliament Jatiya Sangsad Bhaban House জাতীয় সংসদ ভবন পার্লামেন্ট js বাজেট পাস
file pic

বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) এবং তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি পরিচালিত হয়।

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, দেশে এই মুহূর্তে প্রকৃত খেলাপি ব্যাংক ঋণের পরিমাণ কত, শীর্ষ ২০ খেলাপি কারা, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়ে এবং সংসদ সদস্যদের ব্যাংক ঋণ এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সংসদ সদস্য এবং তাদের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে দেশের ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো থেকে নেওয়া মোট ঋণের স্থিতি ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ঋণের একটি বড় অংশই বর্তমানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত।

মন্ত্রী সংসদকে জানান, উল্লিখিত ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি। তবে তিনি বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে উল্লেখ করেন যে, আদালতের নির্দেশনা বা স্থগিতাদেশের কারণে এই খেলাপি ঋণের একটি অংশ নিয়মিত ঋণ হিসেবে দেখানো হতে পারে, যা আইনি মারপ্যাঁচে খেলাপি তালিকার বাইরে ছিল।

দেশের শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির তালিকা প্রকাশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নবম দিনে খেলাপি ঋণের শীর্ষ ২০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্থিতি ভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮ শত ৩১ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। বতর্মান সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি শীর্ষ ২০ খেলাপির তালিকাও সংসদে তুলে ধরেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি পরিচালিত হয়।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, দেশে এই মুহূর্তে প্রকৃত খেলাপি ব্যাংক ঋণের পরিমাণ কত, শীর্ষ ২০ খেলাপি কারা, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়ে এবং সংসদ সদস্যদের ব্যাংক ঋণ এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত।

জবাবে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-

১। এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড

২। এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড

৩। সালাম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

৪। এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড

৫। সোনালী ট্রেডার্স

৬। বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড

৭। গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড

৮। কেমন ইস্পাত লিমিটেড

৯। এস. আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড

১০। ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

১১। কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড

১২। দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড

১৩। পাওয়ার প্যাক মুতিারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

১৪। পাওয়ার প্যাক মুতিারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

১৫। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড

১৬। কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড

১৭। মুরাদ এন্টারপ্রাইজ

১৮। সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড

১৯। বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড

২০। রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড

খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা

১০ শতাংশের অধিক শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে এরূপ ব্যাংকগুলোর সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আলোচনা এবং শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা খুঁজে বের করে তা সমাধানের জন্য ব্যাংক হতে কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আয়োজিত প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংক ভিত্তিক শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের অগ্রগতি যাচাই; বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক শ্রেণিকৃত ঋণের হার অধিক এরূপ ব্যাংকসমূহের জন্য শ্রেণিকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন; ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধিত) আইনে সংজ্ঞায়িত ইচ্ছাকৃত খেলাপীদের (উইলফুল ডিফল্টার) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর ০৬; তারিখ: ১২ মার্চ ২০২৪ এর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে গৃহীতব্য ব্যবস্থাদি সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছে; বিআরপিডি সাকুলার নম্বর-১৪/২০২৪ এর মাধ্যমে ব্যাংকের বিদ্যমান লিগ্যাল টিম বা আইন বিভাগ শক্তিশালীকরণের জন্য ব্যাংকসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে; বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) অনুসরণের মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপী ঋণস্থিতির ন্যূনতম ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার জন্য বিআরপিডি সাকুলার নম্বর-১১/২০২৪ এর মাধ্যমে ব্যাংকসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে; ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদকরণ; আইএফআরএস ৯ অনুযায়ী এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস ভিত্তিক ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনার সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং ঋণ ঝুঁকি প্রশমন; বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত জামানত মূল্যায়ন করার নিমিত্ত উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে তালিকাভুক্তিকরণ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD