শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়। এ ছাড়া প্রতিবছর রক্ত পরীক্ষা শরীরের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে আগাম বার্তা দেয়। সার্বিক স্বাস্থ্যের মঙ্গলের জন্য প্রতিবছর যেসব রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত জেনে নিন।
সিবিসি বা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট
সিবিসি টেস্ট রক্তের বিভিন্ন উপাদান, যেমন―লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়।
রক্তে এই উপাদানগুলোর কম বা বেশি হওয়া রক্তশূন্যতা, সংক্রমণ ও রক্ত জমাটবাঁধার মতো রোগকে নির্দেশ করে। রক্তে হিমোগ্লোবিন কম বা বেশি এই সিবিসি টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যায়। হিমোগ্লোবিনে যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
লিপিড প্রফাইল
লিপিড প্রফাইল পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বোঝা যায়।
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো রোগের ঝুঁকি নির্দেশ করে। এই টেস্ট একজন রোগীকে আগে থেকে সচেতন করে, যাতে সে প্রয়োজনমাফিক জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে পারে এবং সে অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে পারে।
ব্লাড গ্লুকোজ
শরীরে ব্লাড গ্লুকোজ বা এফবিএস টেস্ট রক্তে সুগারের পরিমাণ নির্দেশ করে। ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি অনুধাবন করতে বছরে একবার এই টেস্ট করানো উচিত।
থাইরয়েড টেস্ট
থাইরয়েড টেস্ট শরীরের থাইরয়েড গ্লান্ডের অবস্থা বুঝতে বেশ সাহায্য করে। থাইরয়েড গ্লান্ড আমাদের শরীরের শক্তি সঞ্চায়নের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন কার্য সম্পাদনে সহায়তা করে। এই গ্লান্ডের পরিবর্তনের ফলে ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তিভাব তৈরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।এই টেস্টগুলো প্রতিবছর করলে যেকোনো বড় রোগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেশ সাহায্য করবে।