গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক ভোটার। স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এতে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট ভোটারের ৭৭ শতাংশ মনে করেন ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। স্বাধীন ভোটারের মধ্যে এমন মত দিয়েছেন ৫১ শতাংশ। তবে রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। মাত্র ২০ শতাংশ রিপাবলিকান ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন।
সামরিক সহায়তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত স্পষ্টভাবে বিভক্ত হয়ে উঠেছে। জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের মধ্যে ৬ জনের মধ্যে ১০ জন বলেছেন, তারা চান না ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে আর কোনো সামরিক সহায়তা পাঠাক। ২০২৩ সালের নভেম্বরে কুইনিপিয়াক এ প্রশ্ন করা শুরু করে, আর এবারই সর্বোচ্চ বিরোধিতা উঠে এসেছে।
সহানুভূতির দিক থেকেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ভোটারদের ৩৭ শতাংশ বলেছেন, তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। অন্যদিকে ৩৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ইসরায়েলিদের প্রতি সহানুভূতিশীল। জরিপকারীরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতির হার এবারই সবচেয়ে বেশি এবং ইসরায়েলিদের প্রতি সহানুভূতির হার সবচেয়ে কম।
কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক টিম ম্যালয় বলেছেন, “ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে, অন্যদিকে ইসরায়েলকে সামরিক তহবিল দেয়ার আগ্রহ দ্রুত কমছে। আর গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের যেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তা এক কুখ্যাত শব্দ ‘গণহত্যা’কে সামনে নিয়ে এসেছে।”
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ইসরায়েল সরকার তা অস্বীকার করে আসছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক অন্তর্বর্তী রায়ে বলেছিল, দক্ষিণ আফ্রিকা যে গণহত্যার অভিযোগে মামলা করেছে তা গ্রহণযোগ্য এবং ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা থেকে সুরক্ষার জন্য “যৌক্তিক অধিকার” রয়েছে। একই বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গালান্ত এবং নিহত হামাস কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
কুইনিপিয়াক জানিয়েছে, এই জরিপে ১ হাজার ২২০ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা